ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২য় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম, এমপির সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বৈঠক শুরু হয়। শুরুতেই কমিটির প্রথম বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের হার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর জেলা পর্যায়ের কার্যালয় সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ, আঞ্চলিক কার্যালয় আধুনিকায়ন এবং শিল্প খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নসংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর আওতাধীন সার কারখানাগুলোর উৎপাদন ও উৎপাদন সক্ষমতা নিয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় নতুন প্রকল্প গ্রহণ, বন্ধ সার কারখানা পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ, কারখানা পরিচালনায় বিদ্যমান সমস্যা এবং সার উৎপাদনের ব্যয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সার কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে কমিটি।
বৈঠকে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর প্রতিটি কলকারখানার বার্ষিক আয়-ব্যয়, জনবলের শূন্য পদ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চলমান উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
কমিটি শিল্প খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি, সরকারি বিনিয়োগের সর্বোত্তম ব্যবহার, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চলমান প্রকল্পগুলোর কাঙ্ক্ষিত সুফল দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা এবং অসমাপ্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
লোকসানকবলিত চিনিকলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উপায় খুঁজে বের করার বিষয়েও বৈঠকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিনিকলে উৎপাদিত চিনি ছাড়া অন্যান্য উপজাত ব্যবহার করে কীভাবে বায়ো-প্রোডাক্ট তৈরি করা যায় এবং এর মাধ্যমে চিনিকলগুলোকে লাভজনক করা সম্ভব—সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কোন পদে কতটি শূন্য পদ রয়েছে এবং এসব পদের মধ্যে কতটির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে—তার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর এমপি, আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, কাজী রফিকুল ইসলাম এমপি, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম এমপি, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এমপি, মনজুর এলাহী এমপি, মোঃ এনামুল হক এমপি এবং মাসুদ সাঈদী এমপি অংশ নেন।
এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন করপোরেশন, দপ্তর, সংস্থা, বোর্ড ও ফাউন্ডেশনের প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

