বগুড়া সদর উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বরাদ্দ করা সারের মজুদ ও হিসাব যাচাইয়ে গরমিল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি ডিলারের গুদাম থেকে ১৭৬ বস্তা ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সারের হদিস পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় দুই সার ডিলারকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গত রোববার বিকেল ও রাতে বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রাম ও কলোনি এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে সারের মজুদের সঠিক হিসাব প্রস্তুত করে গুদামের মজুদ সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুই ডিলারের মজুদে অসংগতি
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, বিএডিসি থেকে মেসার্স এস আর এগ্রো ও সোনালি ট্রেডার্স নামে দুই ডিলার ৩৭৬ বস্তা করে ডিএপি সার উত্তোলন করেন। পরে গুদামে সংরক্ষিত সার ও খাতাপত্রের হিসাব যাচাইয়ের সময় মজুদের সঙ্গে হিসাবের অসংগতি পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় দুই ডিলারই মজুদের গরমিলের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে উভয় প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সাবগ্রামে গুদামে এলোমেলোভাবে সার
রোববার বিকেলে বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রাম এলাকায় মেসার্স এস আর এগ্রোতে অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল ওয়াজেদ।
অভিযান শেষে ইউএনও বলেন, ডিলার তার গুদামে থাকা সারের মজুদ সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না। গুদামে সারও এলোমেলো অবস্থায় ছিল। মজুদের হিসাব সঠিক না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে মজুদের হিসাব ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৭৬ বস্তা ডিএপি সারের হদিস নেই
অন্যদিকে, রোববার রাতে বগুড়া মহানগরীর কলোনি এলাকায় সোনালি ট্রেডার্সে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ।
তিনি জানান, নিয়মিত মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি বিএডিসি থেকে ৩৭৬ বস্তা ডিএপি সার উত্তোলন করলেও এর মধ্যে ১৭৬ বস্তা সারের হদিস পাওয়া যায়নি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ডিলারশিপের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত
অভিযানে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ চন্দ্র সরকার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসমত জাহান এবং পুলিশের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসমত জাহান বলেন, সার ও বীজের মজুদ নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলা কমিটির কাছেও ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হবে।

