মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত, পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত

রাজধানীর সেগুনবাগিচার দখলমুক্ত ফুটপাত সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের পর পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্কার করা ফুটপাতে নতুন ডাস্টবিন স্থাপন, পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বেঞ্চ নির্মাণ এবং সীমানাপ্রাচীর সংস্কার করা হয়েছে।

সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ফুটপাতের বিভিন্ন স্থানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়সহ দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি স্থাপন করা হয়েছে।

সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন

সোমবার সেগুনবাগিচায় উদ্ধার করা ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে কোনো হকারকে বসতে দেওয়া হবে না। হকারদের জন্য নির্ধারিত বিকল্প স্থান রয়েছে এবং তাদের সেখানে ব্যবসা করতে হবে।

তিনি জানান, উচ্ছেদের পর কেউ নিষিদ্ধ স্থানে পুনরায় বসলে মালামাল ক্রোকসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হকারদের জন্য বিকল্প স্থান

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, কাউকে উচ্ছেদ করা বা গরিব হকারদের পুঁজির ক্ষতি করা সিটি করপোরেশনের উদ্দেশ্য নয়। এ কারণে হকারদের ব্যবসার জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, পীর ইয়ামেনী মাজার এলাকায় শুক্রবার ও শনিবার ‘হলিডে মার্কেট’ পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য দিনে আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশের সড়কের ফুটপাতে হকারদের বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

হকার সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনার মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে মূল সড়ক বন্ধ করে কিংবা অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া হবে না।

পরিচ্ছন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ার উদ্যোগ

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যে স্থান দিয়ে আগে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারতেন না, নিরলস প্রচেষ্টায় সেটিকে হকারমুক্ত করা হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন এলাকাটিকে একটি পরিচ্ছন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল হিসেবে গড়ে তুলতে চায় ডিএসসিসি।

এলাকাটি পরিচ্ছন্ন রাখতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করবেন। একই সঙ্গে সৌন্দর্য ও পরিবেশ বজায় রাখতে শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ ঢাকা গড়তে নাগরিক সহযোগিতা

ঢাকাকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে সাংবাদিক, হকারসহ সর্বস্তরের নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

তিনি বলেন, ঢাকাকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ রাখা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি নগরবাসীরও নাগরিক দায়িত্ব। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নগরের পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন