মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শর্ত পূরণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত এমপিওভুক্ত করার দাবি

জামায়াতের নায়েবে আমীরের সঙ্গে নন-এমপিও শিক্ষক নেতাদের বৈঠক

প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করা নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এমপিওভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সম্মিলিত নন-এমপিও শিক্ষক ঐক্য পরিষদের নেতারা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন বিনা বেতনে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ চেয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির সঙ্গে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, এমপিওভুক্তির প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এমপিওর আওতায় আনা উচিত। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার পরও আর্থিক সুবিধা ছাড়াই কর্মজীবন শেষ করতে হওয়াকে অমানবিক উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।

নন-এমপিও শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক বলে উল্লেখ করে তিনি তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত যেসব শিক্ষক তাদের প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন না, তাদের পাওনা দ্রুত পরিশোধেরও আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে বিএনপির সমালোচনা করে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান দাবি করেন, নির্বাচনের আগে দলটি ক্ষমতায় গেলে নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার কথা বললেও এখন তা বাস্তবায়ন করছে না। অতীতের সরকারের বিরুদ্ধেও এমপিওভুক্তির আশ্বাস বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করেছে, সেগুলোকে এমপিওভুক্ত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

বৈঠকে শিক্ষক নেতারা দাবি করেন, দেশের অনেক স্কুল ও কলেজ ২৫ থেকে ২৬ বছর ধরে কার্যক্রম চালালেও এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বেতন ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি এবং এর অনেকগুলো আর্থিক সংকটে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

তারা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।

একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার দাবি জানান শিক্ষক নেতারা। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও যাচাই-বাছাই করে যোগ্যতার ভিত্তিতে এমপিওভুক্তির দাবি জানান তারা।

শিক্ষক নেতারা আরও দাবি করেন, এমপিওভুক্তির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেও তারা প্রত্যাশিত অগ্রগতি পাননি। নিজেদের আর্থিক ও পারিবারিক সংকটের কথা সরকারের কাছে তুলে ধরতে শিক্ষামন্ত্রী ও স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান বলেও বৈঠকে জানান তারা।

বৈঠকে সম্মিলিত নন-এমপিও শিক্ষক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. দবিরুল ইসলাম ও অধ্যক্ষ নাজমুস শাহাদাৎ আজাদী, সাংগঠনিক সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. মনিমুল হক, অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যক্ষ বাকী বিল্লাহ, অধ্যক্ষ মিজানুল হক মামুন, প্রভাষক মাওলানা মোবারক হোসেন, প্রভাষক রায়হান কবীর মিঠু, প্রভাষক মো. গোলাম মোস্তফা এবং সহকারী শিক্ষক জাহিদ হাসান উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন