সরকারের অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক উদ্যোগের প্রশংসা; যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনায় পরিবর্তন এসেছে দাবি করে বিএফইউজে মহাসচিব ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, ক্ষমতা এখন ব্যক্তিকেন্দ্রিক বলয় থেকে জনগণের কাছে ফিরে এসেছে।
মঙ্গলবার সকালে (বাংলাদেশ সময়) যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে সক্ষম হয়েছে। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেল্টাগ্রামের একটি জনমত জরিপের তথ্য উল্লেখ করেন, যেখানে সরকারের প্রতি ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের সমর্থন ও সন্তুষ্টির কথা বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে ব্যক্তিবৃত্ত থেকে ক্ষমতা এখন জনগণের আঙিনায়।”
অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক তুলে ধরলেন
বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার অবস্থান, তৈরি পোশাক রপ্তানি, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে এসব বাজারে রপ্তানি আয় ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যেও আগস্টে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর তথ্য রয়েছে, যা এক মাসের হিসাবে রেকর্ড।
খেলাপি ঋণের অনুপাত নিয়ে বক্তব্য
ব্যাংক খাত প্রসঙ্গে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সংস্কার ও ঋণ আদায়ের উদ্যোগের ফলে নয় মাসে খেলাপি ঋণের অনুপাত প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে তা ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যেও নয় মাসে খেলাপি ঋণের অনুপাত ২ দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমার এই চিত্র পাওয়া যায়। তবে জুন শেষে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ অনুপাত কমলেও খেলাপি ঋণের মোট অঙ্ক এখনো অনেক বেশি।
‘ক্ষমতা ব্যবহারের সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন’
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেন কাদের গনি চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর সীমিত গাড়িবহর, চলাচলের সময় দীর্ঘক্ষণ সড়ক বন্ধ না রাখা, সরকারি গাড়ি কেনায় নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর সীমিত করা এবং সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
তার ভাষায়, এসব পদক্ষেপ সরাসরি জিডিপি বৃদ্ধি বা মূল্যস্ফীতি কমানোর বিষয় না হলেও রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাহুল্য কম প্রদর্শিত হলে সাধারণ নাগরিকের প্রতি সম্মানের বিষয়টি আরও দৃশ্যমান হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে কাদের গনি চৌধুরী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। পরীক্ষামূলকভাবে পরিবারগুলোকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগকে সামাজিক নিরাপত্তা আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক করার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’, কৃষিঋণ মওকুফ, ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী, খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত নিয়েও কথা
শিক্ষা খাতে মেয়েদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল, ফ্রি ওয়াই-ফাই এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী ও ক্রীড়া কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগের কথা বলেন বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
স্বাস্থ্য খাতে ‘হেলথ কার্ড’, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সহজলভ্য করার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পরিবেশ ও জলবায়ু প্রসঙ্গে জলবায়ু বাজেট, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নদী-খাল পুনঃখনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন কাদের গনি চৌধুরী।
‘উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা’
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষ তারেক রহমানের নেতৃত্বে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা করছেন। বাংলাদেশের উন্নয়নে বিএনপি এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের সভাপতি নাছিম আহমদের সভাপতিত্বে সভায় আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জাকির এইচ চৌধুরী, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ আলী খানসহ প্রবাসী বাংলাদেশি ও সাংবাদিকেরা অংশ নেন।

