পোশাক-হোমটেক্সটাইল থেকে চামড়া ও সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানিতে জোর • চীনা ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল তুলে ধরা • ইউনানে বিনামূল্যে বন্ডেড গুদাম ও প্রদর্শনী সুবিধার সুযোগ • বিসিসিসিআই ও চুয়াংছি বিডির মধ্যে সমঝোতা
বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির ইউনানসহ বৃহত্তর চীনা বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, হোমটেক্সটাইল, চামড়া, সামুদ্রিক খাদ্য ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।
ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ইউনান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংলাপে’ তিনি এ আহ্বান জানান। এতে চীনের ৩০ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।
খোরশেদ আলম বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানো প্রয়োজন। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চীনের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইউনানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুযোগ
সংলাপে চীনের ইউনান প্রদেশের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ ও বিপণন সহজ করার বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।
লানচাং-মেকং উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য উন্নয়ন কেন্দ্রের উপপরিচালক লিউ জিয়েই ইউনানের ‘থ্রি ফ্রিজ অ্যান্ড থ্রি ফ্যাসিলিটেশনস’ নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এ ব্যবস্থার আওতায় বিদেশি ব্যবসায়ীদের বিনামূল্যে বন্ডেড গুদাম, পণ্য প্রদর্শনের স্থান এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেস ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে লজিস্টিকস, কাস্টমস ছাড়পত্র ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের চীনা বাজারে পণ্য প্রদর্শন, বিপণন ও বিতরণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
চীনা বিনিয়োগের জন্য যেসব খাত সামনে এলো
আলোচনায় বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। বিশেষভাবে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা।
ইলেকট্রনিকস, সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি ও আইটিনির্ভর সেবা, সেমিকন্ডাক্টর, লজিস্টিকস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং যন্ত্রপাতি শিল্পকে সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে আলোচনায় আনা হয়।
এ ছাড়া এলিভেটর, ভবন নির্মাণ প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, অ্যালুমিনিয়াম এবং খুচরা বাণিজ্য খাতেও দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
ব্যাংকিং ও বাণিজ্য অর্থায়ন, এলপিজি ও জ্বালানি, শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বাংলাদেশি ও চীনা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।
সমঝোতা স্মারক সই
সংলাপ শেষে বিসিসিসিআই ও চুয়াংছি বিডি লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
সমঝোতার লক্ষ্য বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণ, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করা এবং নতুন যৌথ বাণিজ্যিক উদ্যোগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিসিসিসিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের। এতে সংগঠনটির মহাসচিব, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, পরিচালক ও সদস্যদের পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

