প্রতিযোগী দেশের মতো নীতিসহায়তার আহ্বান • অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বস্ত্র খাতের ভূমিকার প্রশংসা • ১০–৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল চায় বিটিএমএ
দেশের অর্থনীতির জন্য জ্বালানি সংকটকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে বস্ত্রশিল্পকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত নীতি সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি।
সোমবার সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বৈঠকের বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।
রাষ্ট্রপতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বস্ত্রশিল্পের অবদানের প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, খাতটিকে এগিয়ে নিতে হলে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলো তাদের শিল্পকে যে ধরনের নীতিগত সহায়তা দেয়, সেই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে দেশীয় শিল্পের জন্যও সমন্বিত নীতি কাঠামো প্রয়োজন।
বস্ত্র খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে বিটিএমএ নেতাদের পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি।
জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ
বৈঠকে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রপতি বর্তমান জ্বালানি সংকটকে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, অতীতে দেশীয় গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধান ও আহরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো তুলনামূলক বেশি চাপের মুখে পড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে বিটিএমএ প্রতিনিধিদলকে জানান রাষ্ট্রপতি।
‘অর্থনীতি পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ’
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতির বিভিন্ন খাত পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে—এমন অবস্থান তুলে ধরে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যবসায়ী নেতাদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
সুতা আমদানিতে সিদ্ধান্ত বহাল চায় বিটিএমএ
বৈঠকে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল দেশের অর্থনীতিতে বস্ত্রশিল্পের অবদান এবং খাতটির বর্তমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন।
দেশীয় বস্ত্রকল সুরক্ষায় ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবি জানান বিটিএমএ নেতারা।
এনবিআর ৭ সেপ্টেম্বর ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করে এবং প্রকৃত রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে আমদানির ব্যবস্থা করে। তবে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের আপত্তির পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৩ সেপ্টেম্বর সিদ্ধান্তটির বাস্তবায়ন পর্যালোচনার জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয় বলে ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানিয়েছে।
ফলে দেশীয় স্পিনিং মিলের সুরক্ষা এবং রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের কাঁচামালের প্রতিযোগিতামূলক মূল্য—দুই স্বার্থের ভারসাম্য কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটিই এখন নীতিনির্ধারকদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

