শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজেদের প্রজন্মের কর্মসংস্থান তৈরিতে তরুণ এমপিদের এগিয়ে আসার আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

রাজনীতিকে পেশা না বানিয়ে আয়ের স্বতন্ত্র ভিত্তি গড়ে আত্মনির্ভর হওয়ার পরামর্শ বালেন শাহর

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ (বালেন) দেশটির জেন-জি প্রজন্মের সংসদ সদস্যদের নতুন চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের প্রজন্মের জন্য দেশেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কাঠমান্ডুর সিংহদরবারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জেন-জি বয়সী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময়ে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সুশাসন, যুব আত্মকর্মসংস্থান ও স্টার্টআপ নীতি, কারিগরি শিক্ষা, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী শাহ তরুণ সংসদ সদস্যদের শুধু জনগণের মৌলিক জীবনযাত্রার সমস্যা সমাধানে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও এগিয়ে গিয়ে নিজেদের প্রজন্মকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন।

এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে সময়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অকার্যকর পুরোনো চিন্তাধারা পরিহার করে উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী তরুণ রাজনীতিকদের রাজনীতিকে আয়ের পেশায় পরিণত না করারও আহ্বান জানান। রাজনীতির পাশাপাশি বৈধ ও স্বতন্ত্র পেশাগত বা ব্যবসায়িক আয়ের ভিত্তি তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এর মাধ্যমে তরুণ জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের প্রজন্মের কাছে উদাহরণ ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া জেন-জি প্রজন্মের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানকে দিকনির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করে নিজেদের প্রজন্মকে আত্মনির্ভরশীল করা এবং নেপালের ভেতরেই নতুন কর্মসংস্থান ও সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরিতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নেপালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বালেন্দ্র শাহ ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি কাঠমান্ডু মহানগরের মেয়র ছিলেন। বর্তমান সরকারের ঘোষিত অগ্রাধিকারের মধ্যে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ব্যবসা ও উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ এবং সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন