অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃত্তি-উপবৃত্তিতে বেশি প্রয়োজনের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে: ববি হাজ্জাজ

বৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদানে প্রচলিত সমতার ধারণার পরিবর্তে শিক্ষার্থীর প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে বিবেচনায় নিয়ে ‘ইকুইটি-বেসড’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেছেন, সরকারি সহায়তার প্রতিটি টাকা এমন শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে, যার জন্য ওই সহায়তা শিক্ষা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থে প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিপিআরসি ও ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে ‘প্রমাণ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা (School Level Improvement Plan-SLIP)-এর কার্যকারিতা বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব শিক্ষার্থীকে সমানভাবে সহায়তা করলেই শিক্ষায় প্রকৃত সমতা নিশ্চিত হয় না। যার প্রয়োজন বেশি, তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই প্রকৃত ন্যায্যতা। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের একটি শিশুর জন্য সামান্য আর্থিক সহায়তাও বিদ্যালয়ে তার উপস্থিতি এবং শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, বৃত্তি ও উপবৃত্তির নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা, শিশুর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো পরিবার আর্থিকভাবে সক্ষম হয়েও সন্তানকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে ওই পরিবারের জন্য একই ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যে পরিবার সন্তানের শিক্ষা ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের শিশুকে সহায়তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

সরকারের সীমিত সম্পদ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন শিশুর কাছে পৌঁছে দেওয়াকে দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদ্যালয়ে শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করা নয়; দারিদ্র্য, আর্থিক সংকট বা অন্য কোনো বাধার কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষা থেকে ছিটকে না পড়ে, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

এ জন্য বৃত্তি, উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও স্কুল ফিডিংসহ সব ধরনের সহায়তা কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। সরকারি সহায়তার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী চিহ্নিত করার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা হিসেবে সাঁতার শেখানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের জলাশয়, নদী ও পানিবেষ্টিত পরিবেশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বসবাস করতে হয়। তাই সাঁতারকে শুধু ক্রীড়া হিসেবে না দেখে জীবনদক্ষতা ও নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিশুকে শুধু বইয়ের জ্ঞান দিলেই হবে না; নিজের জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয় দক্ষতাও তাকে দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালে। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

আলোচনায় অংশ নেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন