অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘আমাদের অদ্ভুত দেশ, অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর’: স্পিকার

ঘুষ-লুটপাটে মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার অভিযোগ • বিগত সরকারের বিরুদ্ধে কোষাগার লুণ্ঠন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ • প্রশাসনে এখনো আওয়ামী লীগের লোকজন থাকার দাবি

দেশের অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তাকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ঘুষ ও লুটপাটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। একই সঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুণ্ঠন, বিদেশি সহায়তার অর্থ পাচার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িতদের বিচার না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের প্রশাসন ও দুর্নীতি পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পিকার বলেন, ‘আমাদের… অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর।’ তাঁর অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ ঘুষ ও লুটপাটে জড়িত এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে অন্যায়-অবিচারের ঘটনা ঘটলে জনগণকে দীর্ঘদিন দাবি জানাতে হয় না; স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অপরাধের বিচার হয়। কিন্তু বাংলাদেশে বছরের পর বছর দাবি জানিয়েও অনেক অপরাধের বিচার পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিগত সরকারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ

বক্তব্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন স্পিকার। তাঁর অভিযোগ, অনিয়ম ও দুর্নীতির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ লুণ্ঠন করা হয়েছে। বিদেশি সহায়তার অর্থও বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনাও বক্তব্যে টেনে আনেন হাফিজ উদ্দিন। তাঁর দাবি, রিজার্ভের অর্থ ফিলিপাইনে চলে যাওয়ার ঘটনায় সেখানে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বাংলাদেশে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ বিচার হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে সাইবার জালিয়াতির মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়।

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিদেশি সম্পদের প্রসঙ্গ

বক্তব্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশে সম্পদের প্রসঙ্গও তোলেন স্পিকার। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশে সাবেক ওই মন্ত্রীর বিপুল সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে স্পিকারের বক্তব্যে উত্থাপিত এসব অভিযোগ রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে এসেছে; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তি না হলে সেগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

‘প্রশাসনে এখনো আগের সরকারের লোক’

হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও দাবি করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে এখনো বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু কর্মকর্তা রয়েছেন। এ কারণে দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি জনগণের সামনে আসছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্পিকারের বক্তব্যে দুর্নীতির বিচার ও প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। তাঁর মতে, অন্যায় ও দুর্নীতির বিচার নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানো এবং প্রশাসনের প্রতি আস্থা প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে।

তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর একদিন পর সোমবার ভোলা সার্কিট হাউসে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সেখানে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন এবং দুই সার্বভৌম দেশের মধ্যে পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন