রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩২ লাখ টাকার সেতু, পারাপারে ভরসা সুপারি গাছ

সরকারি অর্থে সেতু নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক, সুরক্ষা দেয়ালসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সুপারি গাছ ও বাঁশের সাহায্যে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার করছেন বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের শেরেবাংলা এলাকার বাসিন্দারা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মুসল্লি, কৃষক-শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ গত জুনে শেষ হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক, সুরক্ষা দেয়ালসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হয়নি। এতে সেতুটি ব্যবহার করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির এক প্রান্ত জলমগ্ন। নির্মাণকাজের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এসব ফাটল কোথাও কোথাও জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে বলে দেখা যায়। এ ছাড়া সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক না থাকায় বাঁশ ধরে এবং সুপারি গাছের ওপর ভর করে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটির পশ্চিম পাশে বেতাগী-বরগুনা আঞ্চলিক সড়ক এবং পূর্ব পাশে উত্তর করুণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেতুলিয়াবাজার, একটি মাদ্রাসা ও কয়েকটি মসজিদ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন দুই গ্রামের শত শত মানুষকে সেতুটি ব্যবহার করতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুসল্লি, কৃষক-শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুর অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে একাধিকবার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শানু মাস্টার বলেন, ‘সেতুটি নির্মাণ করা হলেও এখন পর্যন্ত সংযোগ সড়ক হয়নি। আমরা সেতুর সঙ্গে বাঁশ ও সুপারি গাছ লাগিয়ে পারাপার হচ্ছি। এটি ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সেতুটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

শেরেবাংলা গ্রামের জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহ জালাল বলেন, ‘মসজিদে ইমামতি করতে যেতে প্রতিবারই ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হয়। বিষয়টি খুবই অমানবিক।’

আরেক বাসিন্দা আব্দুর রব বলেন, ‘সেতুটি নিয়ে আমরা অনেক হতাশায় আছি। আমাদের একটাই দাবি—সেতুটিতে ওঠানামার জন্য পূর্ণাঙ্গ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।’

বেতাগী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদারের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হচ্ছে। কাজের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও বর্ষার কারণে কাজ করানো সম্ভব হচ্ছে না। যত দ্রুত সম্ভব আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে।’

ঠিকাদার মো. প্রিন্স বলেন, ‘কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি করা হয়নি। বর্ষার কারণে কাজ করতে পারছি না। বর্ষা শেষ হলেই আশা করি সংযোগ সড়ক, সুরক্ষা দেয়ালসহ সব কাজ শেষ করতে পারব।’

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘কাজে অনিয়মের কারণে বিল বন্ধ রাখা হয়েছে। যেসব জায়গায় ফাটল ধরেছে, সেগুলো নতুন করে কাজ করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে সংযোগ সড়কসহ সব কাজ শেষ করতে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ঠিকমতো কাজ শেষ না হলে বিল দেওয়া হবে না।’

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত সেতুটির অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করে সংযোগ সড়ক ও সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন