সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। প্রত্যাবাসনের পর তাদের পুনর্বাসন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মিয়ানমারে জাতীয় সমঝোতা (ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন) বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত এবং নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই অত্যন্ত জনবহুল একটি দেশ। এর মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন। সংকট মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশের পাশে থাকায় জাপান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায়ও বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন যেন নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, সেটি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে জাপানের বিশেষ দূতকে তাঁর অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

মিয়ানমারের পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসনে বিলম্ব

বৈঠকে ইয়োহেই সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মিয়ানমার সরকার সংকটটির সমাধান করতে আগ্রহী।

তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জনে সময় লাগছে বলেও উল্লেখ করেন জাপানের বিশেষ দূত।

রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশের ওপর যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত আছেন বলে জানান। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহায়তার বিষয়ও বৈঠকে তুলে ধরেন।

সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে নিজের অবস্থান থেকে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।

বহুপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের তাগিদ

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। সংকট সমাধানে কেবল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা এবং বহুপক্ষীয় প্রচেষ্টা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী জাপানের বিশেষ দূতের দীর্ঘদিনের মানবিক ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ সফরের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।

সাসাকাওয়া জানান, প্রায় পাঁচ দশক ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে জাতীয় সমঝোতা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিজের কার্যক্রম সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন তিনি।

বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন জাপানের বিশেষ দূত।

বাংলাদেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতার আহ্বান

রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতা করতে জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান। এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করার কথা জানান সাসাকাওয়া।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ জাপানের আরও বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

একই সঙ্গে প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার আগ্রহের কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন