রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দাম বাড়িয়েও মিলছে না এক লিটারের সয়াবিন তেল, চিনি-মুরগি-ডিমেও বাড়তি চাপ

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর পরও রাজধানীর খুচরা বাজারে স্বাভাবিক হয়নি সরবরাহ। বিশেষ করে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল অনেক দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না। দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল কিছুটা মিললেও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ার কথা বলছেন খুচরা বিক্রেতারা। এর মধ্যেই চিনি, ডিম ও মুরগির চড়া দাম ভোক্তাদের দৈনন্দিন বাজার খরচে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

সম্প্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, সেগুনবাগিচা ও শান্তিনগরসহ কয়েকটি এলাকার বাজারে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের ঘাটতি দেখা গেছে।

বিভিন্ন দোকানে দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও এক লিটারের বোতল নেই। খুচরা ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পরিবেশক ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দাম বাড়ানোর পর নতুন মূল্যসংবলিত পণ্যও সব দোকানে পৌঁছায়নি।

পুরনো তেলেও বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ

সরবরাহ ঘাটতির মধ্যে বাজারে আরেকটি উদ্বেগ তৈরি করেছে পুরনো দামের তেল বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ। কোনো কোনো দোকানে আগে সরবরাহ করা বোতলজাত সয়াবিন তেলও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে বাজারে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

সাধারণত ছোট পরিবার ও সীমিত আয়ের ক্রেতাদের মধ্যে এক লিটারের বোতলের চাহিদা বেশি। ফলে এই আকারের বোতল বাজার থেকে উধাও হয়ে যাওয়ায় তাদের দুই বা পাঁচ লিটারের বড় বোতল কিনতে হচ্ছে অথবা বিকল্প হিসেবে খোলা তেলের দিকে যেতে হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধিকে দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। তবে খুচরা বাজারের পরিস্থিতি বলছে, শুধু মূল্য সমন্বয় করেই সরবরাহ সংকট কাটেনি।

চিনির বাজারেও অস্বস্তি

সয়াবিন তেলের পাশাপাশি চিনির বাজারেও স্বস্তি নেই। রাজধানীর কিছু দোকানে পণ্যটির সরবরাহ কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির খুচরা দাম কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে।

একসঙ্গে তেল ও চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় পরিবারের মাসিক খাদ্যব্যয়ের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য কয়েকটি নিত্যপণ্যের সম্মিলিত মূল্যবৃদ্ধি বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।

ডজনপ্রতি ডিম প্রায় ১৫০ টাকা

প্রাণিজ আমিষের বাজারেও দাম চড়া। ব্রয়লার মুরগির ডিম প্রতি ডজন প্রায় ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকার মধ্যে রয়েছে।

সোনালি মুরগির দাম আরও বেশি। বাজারভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিম ও ব্রয়লার মুরগি তুলনামূলক কম খরচে প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস হওয়ায় এসব পণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ ভোক্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

কিছু সবজিতে স্বস্তি, কিছুতে চড়া দাম

তেল, চিনি ও প্রাণিজ আমিষের বাজারে অস্বস্তি থাকলেও কয়েকটি সবজির দাম কিছুটা কমেছে। কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দামও কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

তবে সব সবজিতে স্বস্তি ফেরেনি। বরবটি, টমেটো, গাজর ও কাকরোলের দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে। ফলে কয়েকটি পণ্যের দাম কমলেও সামগ্রিক বাজার ব্যয়ে তার প্রভাব সীমিত।

সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় ক্রেতারা

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ। দাম বাড়ানোর পর সাধারণত বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও এক লিটারের বোতলের ক্ষেত্রে এখনো তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি অনুযায়ী, সরবরাহ পর্যাপ্ত না হলে শুধু মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারের সংকট দূর করা কঠিন। অন্যদিকে সরবরাহ কম থাকার সুযোগে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগও ভোক্তার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

সব মিলিয়ে কয়েকটি সবজির দাম কমলেও নিত্যপণ্যের বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট, চিনির মূল্যবৃদ্ধি এবং ডিম-মুরগির চড়া দাম মিলিয়ে দৈনন্দিন বাজার খরচে চাপ অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন