সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে, হিলি স্থলবন্দর বন্ধের ঘোষণা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আজ রোববার (৩০ আগস্ট) থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার অভিযোগে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ভারতীয় রপ্তানিকারক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশের বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে বিষয়টি জানানো হয়।

হিলি বন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা পারভেজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা ভারতের ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে এ ধরনের একটা চিঠি পেয়েছি।’

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হোসেন বলেন, শনিবার রাতে ভারতের ‘হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’ থেকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় ভারতের হিলি স্থলবন্দর কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ কারণে ভারতীয় হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাই সেখানকার সৃষ্ট জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত তারা রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে কোনো পণ্য রপ্তানি না করার এবং বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

শনিবার রাতে ফোনে হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মণ্ডল বলেন, ‘আপনারা যেটা শুনেছেন, সেটা সত্য। আমরা বন্দর ব্যবহারকারীরা যৌথভাবে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছি না। সেসব স্থলবন্দরে যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু আমরা ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত হিলি স্থলবন্দরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে কোণঠাসা হচ্ছি। তাই রোববার থেকে বাংলাদেশে কোনো ধরনের পণ্য রপ্তানি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও কোনো ধরনের পণ্য আমদানি করা হবে না।’

বিকাশ মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ বজায় না থাকলে এই সিদ্ধান্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর হবে।’

এদিকে, হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ওসি মো. জাকারিয়া জানিয়েছেন, পাসপোর্ট ও বৈধ ভিসা থাকলে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ব্যবহার করে যাত্রীরা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচল করতে পারবেন। ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কার্যক্রম প্রতিদিন স্বাভাবিক রয়েছে।

তবে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এ সিদ্ধান্তের ফলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন