শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামালপুরে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাই, পিবিআইয়ের অভিযানে গ্রেফতার ৩

জামালপুরে অটোরিকশা চালককে চেতনানাশক দ্রব্য মেশানো পানীয় খাইয়ে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার বিভিন্ন খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—মোছা. রুমা বেগম (৪০), মো. আমিনুল ইসলাম (৩৭) ও মো. লাল মিয়া (৪৮)।

পিবিআই জামালপুর জেলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট জামালপুর সদর থানাধীন বেলটিয়া থেকে লাঙ্গলজোড়াগামী পাকা সড়কের মিয়ারপাড়া এলাকায় অটোরিকশাচালক মো. আলমগীর হোসেন (৩৮) অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের ছিনতাইয়ের শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, তাকে চেতনানাশক দ্রব্য পান করিয়ে অচেতন করার পর অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জামালপুরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলা করেন।

মামলাটি পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পিবিআই জামালপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই (নিঃ) মো. জাহাঙ্গীর আলম।

পিবিআই জানায়, তদন্ত কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২ সেপ্টেম্বর মামলার এজাহারনামীয় আসামি মোছা. রুমা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়।

রুমা বেগমের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আমিনুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার ক্রেতা মো. লাল মিয়াকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই আরও জানায়, লাল মিয়ার বসতঘরে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীর ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার বিভিন্ন খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

যেভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে

পিবিআইয়ের তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন ও মামলার এজাহারনামীয় আসামি রুমা বেগম পূর্বপরিচিত ছিলেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে রুমা বেগম অটোরিকশা রিজার্ভ নেওয়ার কথা বলে আলমগীরকে মেলান্দহের হাজরাবাড়ী এলাকায় ডেকে নেন।

পরে সেখানে আমিনুল ইসলাম ও পলাতক আসামি মো. আবদুর রহিমের সহযোগিতায় কৌশলে চেতনানাশক দ্রব্য মেশানো ফ্রুটু জুস আলমগীরকে পান করানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

পরে আমিনুল ইসলাম ছিনতাই করা অটোরিকশাটি লাল মিয়ার কাছে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে। এরপর লাল মিয়া অটোরিকশাটি বিভিন্ন অংশে খণ্ডিত করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ বসতঘরে সংরক্ষণ করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

গ্রেফতার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন