বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, ভিডিও বার্তায় তামান্নার দাবি ‘এখানেই থাকব’

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূ তামান্না আক্তারকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তিনি। ভিডিওতে তামান্না দাবি করেছেন, তিনি এখন ওই স্থানেই থাকবেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে তামান্নাকে কয়েকজন নারীর সঙ্গে একটি কক্ষে বসে থাকতে দেখা যায়। কক্ষের দরজার পাশে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।

ভিডিও বার্তায় তামান্নাকে বলতে শোনা যায়, ‘জোর করে হোক কিংবা নিজের ইচ্ছায় হোক, যেভাবেই এসে থাকি, এসে তো পড়েছিই। এখন এখানেই থাকব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি এখন ফিরেও যাই, আমার মান-সম্মান ফেরত আসবে না; আমার বাবা-মায়ের মান-সম্মানও আর ফিরে আসবে না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখানেই থেকে যাব।’

এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে বরযাত্রীদের গাড়ি আটকে নববধূকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে আতিকুর রহমান মিয়াদ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। আতিকুর চর হাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ছাত্রদলের কর্মী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে বরপক্ষের লোকজন বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

পথে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক একটি মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে বলে স্থানীয়দের দাবি। এ সময় গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আতিকুর রহমান মিয়াদের নেতৃত্বে নববধূ তামান্নাকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর তামান্না ও আতিকুর রহমান মিয়াদের মধ্যে আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়। তবে এই সম্পর্কের বিষয়টি স্বাধীনভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের বক্তব্য

হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত মামলা হয়নি। তবে পুলিশ নববধূকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, তামান্নাকে উদ্ধারের পর পুরো ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি ও ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।

রাজনৈতিক সংগঠনের বক্তব্য

হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব দেলোয়ার হোসেন রাজীব জানান, আতিকুর রহমান মিয়াদ ছাত্রদলের একজন কর্মী।

কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ বলেন, ঘটনাটি জানার পর সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শহীদুল্লাহ কাইসার শহীদ বলেন, আতিকুর দলীয় কর্মী হলেও তাঁর এমন কর্মকাণ্ড গর্হিত ও অন্যায়। তামান্নার পরিবার আইনি পদক্ষেপ নিলে পুলিশ ও প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে আতিকুর রহমান মিয়াদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, নববধূকে উদ্ধারের পাশাপাশি পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন