সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

ছিনতাইকালে শিক্ষিকা রনজিলার মৃত্যু: গ্রেপ্তার ৩ জন রিমান্ডে

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারী ব্যাগ ধরে টান দেওয়ায় অটোরিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদ এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- মো. পনি ওরফে প্যারা পনি ওরফে পনি গাজী, সেড্রিক জুলিয়ান ও রাকিব হোসেন।

এ দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শাহিন আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

তবে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আমির উদ্দিন আমির, শাহাদাত হোসেন মামুন রিমান্ড বাতিল করে জামিন চান। শুনানিতে তারা বলেন, “আমরা চাই সঠিক অপরাধীর বিচার হোক। নিরাপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়। এরা (৩ আসামি) ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। যে মোটরসাইকেল শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার সাথে এটার (ঘটনার সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা যাওয়া মোটরসাইকেল) মিল নাই। এ ঘটনাকে অন্যখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হচ্ছে।”

তবে শুনানি নিয়ে আদালত প্রত্যেক আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

এদিকে শুনানি নিয়ে আদালত থেকে বের হয়ে আসামি পনি বলেন, “আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। সত্যের জয় হবে। র‍্যাব ভুয়া। সব জায়গায় এখন এআই ক্যামেরা আছে। তাই আমরা ভয় করছি না। আল্লাহ একটা কিছু করবেই।”

এর আগে রোববার অভিযান চালিয়ে পনিসহ ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-২।

নিহত রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ২৯ অগাস্ট চোখের ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে স্বামী আবদুল মতিনের সঙ্গে ভোরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেইট সংলগ্ন পাকা রাস্তায় অটোরিকশা করে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তার হাতের ব্যাগ ধরে টান দেয়।

ছিনতাইকারীর টানে রনজিলা চলন্ত রিকশা থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আবদুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় রোববার মামলা করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন