সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

আনসারের তৎপরতায় নীলফামারী সদর হাসপাতালে হারানো শিশু উদ্ধার

নীলফামারী সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে হারিয়ে যাওয়া ছয় বছরের এক শিশুকে পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দিয়েছে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা। দায়িত্বশীলতা, তৎপরতা ও মানবিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিশুটিকে দ্রুত তার স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেন তারা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের প্রধান ফটক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুপুরে প্রধান ফটক এলাকায় মো. ফুরকান আলী (৬) নামে শিশুটিকে কান্নারত অবস্থায় একা ঘোরাফেরা করতে দেখেন সেখানে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্য শ্রী মিলন চন্দ্র রায়। শিশুটির আচরণে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি দ্রুত তার কাছে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন এবং বিষয়টি কর্তব্যরত পিসি মো. আমিনুর ইসলামকে জানান।

পরে আনসার সদস্যরা শিশুটির স্বজনদের খুঁজে বের করতে হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করেন। একই সঙ্গে শিশুটির পরিচয় ও পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করা হয়।

দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর আনুমানিক সোয়া দুইটার দিকে শিশুটির ফুফুসহ অন্যান্য স্বজনের সন্ধান পান আনসার সদস্যরা। পরে প্রয়োজনীয়ভাবে শিশুটির পরিচয় ও স্বজনদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিশ্চিত করা হয়।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শিশুটিকে নিরাপদে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ সময় পর শিশুকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে দ্রুত শিশুটিকে খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ায় কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে আনসার সদস্যদের অন্যতম দায়িত্ব হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায়, বিপদগ্রস্ত ও হারিয়ে যাওয়া মানুষের সহযোগিতায় তাদের এমন মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নীলফামারী সদর হাসপাতালের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে শিশু হারিয়ে গেলে দ্রুত তাকে শনাক্ত করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় আনসার সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও সমন্বিত উদ্যোগের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুটির স্বজনদের খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

শিশুটিকে পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আনসার সদস্যদের দায়িত্বশীলতা ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন