পৃথক অভিযানে ককটেল, কেরোসিন ও মশাল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার; বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা পুলিশের।
রাজধানীর মিরপুরে অভিযান চালিয়ে ২০টি ককটেল, ৪১টি মশাল তৈরির লাঠি ও ২ লিটার কেরোসিন তেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ককটেলগুলো বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করেন। এদিকে পৃথক অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আল মাহমুদ তারেককে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের বিকাবদার।
পাইকপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ককটেল উদ্ধার
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিরপুর-১-এর পাইকপাড়া আনসার ক্যাম্পের তানিম ভবনের সামনে অভিযান চালায় মিরপুর থানা পুলিশ। এ সময় তিনটি কাগজের ব্যাগ থেকে ১৫টি এবং রাস্তার ওপর পড়ে থাকা আরও পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া দুটি বাজারের ব্যাগে ২ লিটার কেরোসিন তেল, ৪১টি মশাল তৈরির লাঠি এবং জড়ো করা নরম ককশিট পাওয়া যায়।
বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয় ককটেল
উদ্ধারের পর বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে কল্যাণপুরের হাক্কানী গলি-সংলগ্ন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্মাণাধীন ভবন চত্বরে খোলা জায়গায় গর্ত খুঁড়ে ককটেলগুলো বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
পৃথক অভিযানে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার
অন্যদিকে, একই দিন রাত দেড়টার দিকে মিরপুরের লাভ রোড এলাকা থেকে মো. আল মাহমুদ তারেককে গ্রেপ্তার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
নাশকতার পরিকল্পনার ধারণা পুলিশের
ডিসি হাসান মোহাম্মদ নাছের বিকাবদার জানান, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার ও ককটেল উদ্ধারের ঘটনা কাছাকাছি সময়ে ঘটেছে। পুলিশের ধারণা, নিষিদ্ধ সংগঠনটির বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল।
তিনি আরও বলেন, ককটেল উদ্ধার ও ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তারের ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

