রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা, সাত প্রার্থীর বিরুদ্ধেই আপত্তি

অনানুষ্ঠানিক ভোটে প্রত্যেক প্রার্থী অন্তত একটি ‘অনুৎসাহিত’ ভোট পেয়েছেন; এগিয়ে থাকা রেবেকা গ্রিনস্প্যানের বিরুদ্ধেও দুটি স্থায়ী সদস্যের আপত্তি

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাত প্রার্থীর প্রত্যেকেই নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত একজন স্থায়ী সদস্যের কাছ থেকে ‘অনুৎসাহিত’ ভোট পেয়েছেন। কার্যত এ ভোটকে ভেটোর সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শুক্রবার অনুষ্ঠিত সর্বশেষ অনানুষ্ঠানিক ভোটের ফল সম্পর্কে এক কূটনীতিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ভেটো বোঝাতে প্রথমবার রঙিন কাঠি

শুক্রবারের ভোটে প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—ভেটো বোঝাতে রঙিন কাঠি ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে, পরিষদের নির্বাচিত ১০ সদস্য আগের মতোই সাধারণ কাঠি ব্যবহার করেছেন। ভোটের সময় সদস্যদের পরিচয় গোপন রাখা হয়।

নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যকে প্রতিটি প্রার্থীর বিষয়ে তিন ধরনের মতামতের একটি দিতে হয়—‘সমর্থন’, ‘অনুৎসাহিত’ অথবা ‘কোনো মতামত নেই’। অনানুষ্ঠানিক এ ভোটের মাধ্যমে প্রার্থীদের প্রতি সদস্যদের অবস্থান যাচাই করা হয়।

এগিয়ে রেবেকা গ্রিনস্প্যান, তবু আপত্তি

কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান আগের পাঁচ দফা ভোটেও এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন। শুক্রবারের ভোটেও তিনি সবচেয়ে বেশি ‘সমর্থন’ ভোট পেয়েছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি ‘অনুৎসাহিত’ ভোট পড়েছে, যার মধ্যে দুটি এসেছে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের কাছ থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাত প্রার্থীর কাউকেই সমর্থন করছে না ওয়াশিংটন।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইক ওয়াল্টজ এ প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে শুক্রবার তিনি বলেন, “আমরা সব সময়ই বলে আসছি, আমাদের শুধু সেরা প্রার্থীটিকেই প্রয়োজন।”

নতুন কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যোগ দিতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াল্টজ বলেন, “কোনো দেশ আরও প্রার্থী দিতে চাইলে, তা অবশ্যই তাদের সার্বভৌম অধিকার।”

সম্ভাব্য নতুন প্রার্থী নিয়ে আলোচনা

কূটনীতিকদের বিবেচনায় সম্ভাব্য নতুন প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর অধীনে গাজার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লানা নুসেইবেহ।

এ ছাড়া তুরস্কের ফেরিদুন হাদি সিনিরলিওগলুর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তিনি ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার (ওএসসিই) মহাসচিব।

প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আরও যারা

মহাসচিব পদে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বার্কেট, জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার বর্তমান প্রধান আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের ম্যাকি সাল, ইকুয়েডরের ইভোনে এ-বাকি ও মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা এবং উগান্ডার ওলারা ওতুনু।

বিদায়ী মহাসচিব পর্তুগালের আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছর মেয়াদি দায়িত্বের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।

মহাসচিব নির্বাচনে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো গুরুত্বপূর্ণ

জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত নয়টি ভোট পেতে হয়। একই সঙ্গে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো একটির ভেটো এড়াতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতপার্থক্য থাকায় এ প্রক্রিয়ায় ঐকমত্য অর্জন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সমর্থন পেয়ে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো এড়াতে পারলে তাঁর নাম চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘের সব সদস্য দেশের সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে।

দুই প্রার্থীর নামেই ভেটো পড়ায় সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটাতে ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে নিরাপত্তা পরিষদের এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক ভোটের পদ্ধতি চালু করা হয়। প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ নয়—এমন সমালোচনা থাকলেও বিভিন্ন সময়ে নানা রূপে এ পদ্ধতি চালু রয়েছে।

আঞ্চলিক পালাবদলের রীতি

জাতিসংঘের শীর্ষ পদটি পালাক্রমে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রার্থীদের দেওয়ার একটি অলিখিত রীতি রয়েছে। সে রীতি অনুসারে, এবার লাতিন আমেরিকার কোনো প্রার্থীর মহাসচিব হওয়ার কথা। এ অঞ্চল থেকে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ম্যাকি সাল ও ওলারা ওতুনু আফ্রিকার প্রার্থী।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন