গড়াই নদীতে সেতু নির্মাণে ব্যয় হতে পারে ২৫০–৩০০ কোটি টাকা, শিগগিরই শুরু হচ্ছে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশার কাজ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদীর ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতুর নির্মাণকাজ চলতি শীত মৌসুমের শেষ দিকে শুরু করার আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সেতুটি নির্মাণে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা এলাকায় প্রস্তাবিত সেতুর নির্মাণস্থান পরিদর্শন এবং শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, মাটির পরীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের কাজ শুরুর নির্দেশনা দেওয়া হবে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে শীত মৌসুমের শেষ দিকে নির্মাণকাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
শিগগিরই শুরু হবে সমীক্ষা ও নকশার কাজ
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ফিজিবিলিটি স্টাডি, সয়েল টেস্ট ও ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শুরুর জন্য তিনি মৌখিক নির্দেশনা দেবেন।
তিনি বলেন, “আশা করছি, শীত মৌসুমের শেষের দিকে টেন্ডারের মাধ্যমে আমরা ব্রিজের কাজ শুরু করতে পারব।”
তবে নির্মাণকাজ শুরুর আগে সেতুর উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ, কারিগরি সমীক্ষা এবং নকশা প্রণয়নের মতো প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
ব্যয় হতে পারে ৩০০ কোটি টাকা
প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মাণে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এ জন্য একটি পৃথক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, ডিপিপি প্রস্তুতের পর পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর নির্মাণস্থান পরিদর্শন
প্রতিমন্ত্রী জানান, শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সপরিবারে সাক্ষাৎ করে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন প্রয়োজন নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তাঁরা স্থানীয় একটি মসজিদ, কয়েকটি ছোট রাস্তা, ঈদগাহ মাঠ এবং গড়াই নদে সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
প্রধানমন্ত্রী সেতুটি দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবিত সেতুর সম্ভাব্য দুটি নির্মাণস্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন।
পরিদর্শনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতারা
সেতুর প্রস্তাবিত নির্মাণস্থান পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতারা।
প্রস্তাবিত সেতুটি বাস্তবায়িত হলে গড়াই নদীর দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নির্মাণকাজ শুরুর সময়সীমা নির্ভর করবে সমীক্ষা, নকশা, প্রকল্প অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর।

