বোয়িংয়ের ২৫ উড়োজাহাজ কেনাসহ মার্কিন পণ্য আমদানি বাড়ানোর কথা তুলে ধরে সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ
মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিসহ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল, গম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে দেশটি থেকে আরও সহায়তা প্রত্যাশা করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের অগ্রগতি বিবেচনায় এখনই এ ধরনের সহায়তা পাওয়ার উপযুক্ত সময় বলে মনে করছে সরকার।
বুধবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের বিষয় সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী এ প্রত্যাশার কথা জানান।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের জন্য সহায়তার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য আমদানি করছে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আরও সহায়তা আসা উচিত।
বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তিতে সহায়তার প্রত্যাশা
অর্থমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনাসহ সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের যেসব সংস্থা অনুদান দিয়ে থাকে, তাদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা জোর করে তুলে ধরেছি যে এখন যদি সমর্থন না আসে, তাহলে কবে আসবে? এমন একটি সম্পর্ক, যেখানে বাংলাদেশ এতগুলো পণ্য আমদানি করছে। আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য কমানোর বিষয়ে তারা যে কথা বলছে, বাংলাদেশও তা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এই সহায়তাগুলো আসা উচিত। তারা একমত হয়েছে, দেখা যাক কী হয়।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এ ধরনের সহায়তা বাংলাদেশ সেভাবে পায়নি। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক এবং বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিধি বিবেচনায় মার্কিন সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ।
শুল্কের চাপ সামলাতে বেড়েছে মার্কিন পণ্য আমদানি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করলে তার প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ৩৫ শতাংশ শুল্কের চাপ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ।
এর অংশ হিসেবে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে দুই ধাপে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে সরকার। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল, গম, সয়াবিন ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্য আমদানির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
ঢাকা-ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তি
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) নামে একটি বাণিজ্য চুক্তি সই হয়। পরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে চুক্তিটি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়। একই ধারাবাহিকতায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিও করা হয়।
এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি দেশটি থেকে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী। তবে আলোচনার ভিত্তিতে কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি।

