বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গোলাম ফারুক দম্পতির সম্পদে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

দুদকের আবেদনে আদালতের নির্দেশ, আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার ও বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অব.) খন্দকার গোলাম ফারুক এবং তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট জিআরও শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গোলাম ফারুকের সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, খন্দকার গোলাম ফারুকের নামে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হবে। পাশাপাশি তাঁর পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে থাকা ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া খন্দকার গোলাম ফারুক ও তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের যৌথ নামে থাকা ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং দুটি ব্যাংক হিসাবে থাকা ১২ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ক্রোকের আওতাভুক্ত স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ঢাকা ও টাঙ্গাইলের জমি ও প্লট রয়েছে।

আয়ের তুলনায় সম্পদ বেশি থাকার অভিযোগ

দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, খন্দকার গোলাম ফারুক ও তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। অনুসন্ধানকালে সংগৃহীত নথিপত্র, বিভিন্ন দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য এবং আয়কর নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খন্দকার গোলাম ফারুকের নামে দায়-দেনা সমন্বয়ের পর নিট সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকা পারিবারিক ব্যয় যোগ করে তাঁর অর্জিত মোট সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এর বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২ কোটি ৮৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা।

দুদকের হিসাবে, তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা বেশি। কমিশনের আবেদনে এই অতিরিক্ত সম্পদকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বলে প্রতীয়মান হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

স্ত্রীর সম্পদ নিয়েও অনুসন্ধান

দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়েছে, শারমিন আক্তার খান একজন গৃহিণী। তাঁর নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৩ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা পারিবারিক ব্যয় যোগ করে তাঁর অর্জিত মোট সম্পদের মূল্য ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

এর বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। দুদকের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বেশি। আবেদনে এ সম্পদও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বলে প্রতীয়মান হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পদ সংরক্ষণে আদালতের আদেশ

দুদকের আবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধান বা তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তদের নামে থাকা সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর, বিক্রি কিংবা অন্য কোনো উপায়ে গোপন বা বিলুপ্ত করার সুযোগ বন্ধ করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে সম্পদ সংরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের আবেদন করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধের আদেশ দেন। তবে সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধের আদেশ অভিযোগের অনুসন্ধানকালীন সম্পদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা; এটি নিজে থেকে অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন