মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

মানবপাচার রোধে সমন্বিত উদ্যোগে সম্মত বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন

বৈধ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা, মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ এবং ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ইইউ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার।

সভায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ ও অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৫২টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের প্রবেশাধিকার আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ ইইউর ‘ট্যালেন্ট পার্টনার’ হিসেবে কাজ করছে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘বাংলাদেশ-ইইউ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’-এর আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি, নির্মাণ, বস্ত্র, জাহাজ নির্মাণ, কৃষি ও আতিথেয়তা খাতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে তিনি ইইউর সহযোগিতা কামনা করেন।

এ ছাড়া ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুযায়ী দক্ষতা মূল্যায়ন ও সনদ প্রদান, ভাষা প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল নিয়োগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ‘জাতীয় পুনর্বাসন নীতি ২০২৫’ অনুযায়ী দেশে ফেরা কর্মীদের পুনর্বাসনে ইইউর সহায়তা চাওয়া হয়।

ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেন, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার দমনের পাশাপাশি বৈধ পথে অভিবাসন নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। বর্তমানে ইইউর বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ব্রুনার আরও বলেন, বাংলাদেশে স্থিতিশীল সরকার ও পরিস্থিতি বিরাজ করায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে এবং বাংলাদেশকে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক, যুগ্মসচিব মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইইউ প্রতিনিধিদলে কমিশনার ব্রুনারের সঙ্গে ছিলেন পরিচালক হেনরিক নিলসেন, ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস এবং যোগাযোগ উপদেষ্টা লুকাস গাসনার। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা ও ফার্স্ট কাউন্সেলর কামিলা পার্টিস্কা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন