শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে অফিস খুলতে মেটাকে আহ্বান, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

ডিজিটাল অর্থনীতি ও ই-কমার্স সম্প্রসারণে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা • অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে গুরুত্ব • প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও কথা • ঢাকায় কার্যক্রম স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়েছে মেটা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক কার্যালয় বা কার্যক্রমের কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে আহ্বান জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনকরপোরেটেডের চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটিতে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও সময়সূচির সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁর নিউইয়র্ক সফরের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতেও মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসারের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বাংলাদেশে অফিস খুলতে মেটাকে আহ্বান

বৈঠকে বাংলাদেশে মেটার বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্ক এবং দেশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় বাংলাদেশে মেটার একটি অফিস বা কার্যক্রমের কেন্দ্র স্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকের পর নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে শামা ওবায়েদ জানান, এ বিষয়ে মেটা আগ্রহ দেখিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ঢাকায় একটি ‘ফোকাল পয়েন্ট’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আগ্রহী।

ডিজিটাল অর্থনীতি ও ই-কমার্সে সহযোগিতা

আলোচনায় বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল অর্থনীতি এবং ই-কমার্স খাত বিশেষ গুরুত্ব পায়।

দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং অনলাইনভিত্তিক ব্যবসাকে সম্প্রসারণে মেটার প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তি কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যবসা এবং ই-কমার্সের প্রসারে মেটার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার আগ্রহ জানিয়েছে মেটা।

অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে গুরুত্ব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপব্যবহার, হয়রানি ও ডিজিটাল হ্যারাসমেন্ট প্রতিরোধের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অনলাইনে অপব্যবহার ও হয়রানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করায় ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল পরিবেশ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও আলোচনা

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও মেটার প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা এবং অনলাইন পরিবেশে আইনগত কাঠামোর সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নিউইয়র্কে দেওয়া ব্রিফিংয়েও মেটার সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৈঠকে ছিলেন যারা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং উপস্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

মেটার পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান।

দুই পক্ষের আলোচনায় বাংলাদেশে মেটার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ, ডিজিটাল ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ গড়ে তোলার সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকটিকে গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকায় মেটার উপস্থিতি বাড়ার সম্ভাবনা

বাংলাদেশে মেটার নিজস্ব অফিস বা ফোকাল পয়েন্ট স্থাপিত হলে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবহারকারীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ বাড়তে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকায় এমন উপস্থিতি তৈরির বিষয়ে মেটা আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে অফিস বা ফোকাল পয়েন্ট কবে চালু হতে পারে কিংবা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—তা এখনো জানানো হয়নি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিতে কূটনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন