আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর সদর উপজেলার ৫ নম্বর উপশহর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা ও ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের (বি-ব্লক) সাধারণ সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন তরুণ সমাজকর্মী বিল্লাল হোসেন রুবেল।
ইতোমধ্যে ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তার সমর্থনে ব্যানার-পোস্টার দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন তিনি। এ সময় এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, নাগরিক সেবা ও সম্ভাব্য উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বলে জানা গেছে।
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিল্লাল হোসেন রুবেল বলেন, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়নকে সামনে রেখেই তিনি নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, “আমার মূল লক্ষ্য হলো ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করা। একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে চাই। বিশেষ করে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক ও সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করতে চাই।”
তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে ওয়ার্ডবাসীর সেবায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিল্লাল হোসেন রুবেল বলেন, এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে তার অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচিত হলে দল-মত ও শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে সবার জন্য কাজ করতে চাই।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তরুণ প্রার্থী হিসেবে বিল্লাল হোসেন রুবেলকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তার সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, তরুণদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি বাসিন্দাদের একটি অংশ ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে এসব মতামত ব্যক্তিগত এবং পুরো ওয়ার্ডের ভোটারদের সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “বিল্লালকে আমরা এলাকার ছেলে হিসেবেই চিনি। মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তরুণদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহও তার মধ্যে আছে। এলাকার মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকার চেষ্টা করেন—এ বিষয়টি আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি।”
অন্য এক ভোটার বলেন, “বিল্লাল তরুণ এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে মিশে চলেন। সামাজিক কাজের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর করতে পারবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।”
স্থানীয় আরও কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতির পাশাপাশি এলাকার বাস্তব সমস্যা সমাধানে তাদের পরিকল্পনাও ভোটারদের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
বিশেষ করে সড়কব্যবস্থা, ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্নতা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পরিবেশ এবং তরুণদের সামাজিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
সচেতন কয়েকজন নাগরিকের মতে, নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি সামনে এলেও ভোটাররা এলাকার বাস্তব সমস্যা সমাধানে প্রার্থীদের পরিকল্পনা, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নির্বাচিত হওয়ার পর জবাবদিহিতার বিষয়গুলো বিবেচনা করতে পারেন।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে ‘উপশহর বি-ব্লক কমিউনিটি’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশের সময় বিল্লাল হোসেন রুবেলকে আহ্বায়ক করা হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে সামাজিক উন্নয়ন, যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখা, রক্তদান এবং অসহায় মানুষের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানানো হয়েছিল। এর আগে ও পরেও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে।
এদিকে ২ নম্বর ওয়ার্ডে বিল্লাল হোসেন রুবেলের পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়লে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা বাড়তে পারে।
বিল্লাল হোসেন রুবেল তার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ২ নম্বর ওয়ার্ডের বি-ব্লকের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি উপশহর ইউনিয়নবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তবে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা, মনোনয়ন ও নির্বাচনী সময়সূচি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী নির্বাচনী কার্যক্রমের চিত্র স্পষ্ট হবে।

