পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল করার অভিযোগে ১৪ শিশুসহ ১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মহিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোরে কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কুয়াকাটা এলাকার হোটেল ‘প্রেসিডেন্ট পার্ক’-এর সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক সোয়া ৪টার দিকে হোটেল প্রেসিডেন্ট পার্কের সামনে বেড়িবাঁধের পাকা সড়কে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার হাতে নিয়ে আকস্মিক মিছিল বের করেন। খবর পেয়ে মহিপুর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আবুল কালাম আজাদ সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলকারীরা দিগ্বিদিক ছুটে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ১৯ জনকে আটক করে। তবে আরও চারজনসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জন পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪ জন আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু রয়েছে। এ ছাড়া আটক আবুল কালাম খান (১৯)-এর হেফাজত থেকে একটি স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও ১৫টি কালো মাস্ক জব্দ করা হয়।
জব্দ করা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং অবৈধ ট্রাইব্যুনালের কালো আইন প্রত্যাহার করতে হবে।’ ব্যানারটিতে কুয়াকাটা পৌর ছাত্রলীগের মো. রুবেল খানের সৌজন্যে লেখা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় মহিপুর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর ৮, ৯, ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ১৯।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, আটক প্রাপ্তবয়স্ক আসামি ও আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুদের মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

