শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে ১২ হাজার গ্রেফতারি পরোয়ানা ঝুলে আছে, দ্রুত তামিলের নির্দেশ

আগস্টে ২০৮ অপরাধ, মাদকসংক্রান্ত ৬৬ • এক বছরে ৬৫ অবৈধ ইটভাটা বন্ধ • বিভিন্ন আইনে জরিমানা ১.২৩ কোটি টাকা • সামাজিক অবক্ষয় ও দুর্নীতি রোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর জেলায় ১২ হাজারের বেশি গ্রেফতারি পরোয়ানা এখনো তামিলের অপেক্ষায় রয়েছে। আগস্টে ৮৫২টি পরোয়ানা নিষ্পত্তি হলেও মাস শেষে অনিষ্পন্ন পরোয়ানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৪টিতে। এ অবস্থায় পরোয়ানা তামিলের হার বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা, জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয় সভায় এসব তথ্য উঠে আসে।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। লক্ষ্মীপুর জেলার তদারকির দায়িত্ব পাওয়ার পর এটি ছিল তাঁর প্রথম সমন্বয় সভা।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টে জেলায় মোট ২০৮টি অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ২৬টি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ৬৬টি। অন্যান্য অপরাধের সংখ্যা ৯১টি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, গ্রেফতারি পরোয়ানা দ্রুত তামিল এবং বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সামাজিক অবক্ষয় এক দিনে তৈরি হয় না। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সমাজকে সঠিকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পরিবার, শিক্ষক, সচেতন নাগরিক ও রাষ্ট্র—সব পক্ষের দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সব সমস্যা রাষ্ট্রের ওপর ছেড়ে না দিয়ে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দেশের উন্নয়নেও সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিটি দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান।

সভায় লক্ষ্মীপুরের পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রমেরও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রশাসনের বিভিন্ন অভিযানে ৬৫টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন আইনে আদায় করা হয়েছে মোট ১ কোটি ২৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা।

এর মধ্যে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযানে ১৬টি মামলা করে ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জমির টপসয়েল কাটা বন্ধে ৬৬টি অভিযানে ৫৯টি মামলা এবং ৩৩ লাখ ৮০ হাজার ১০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

অবৈধ বালু উত্তোলন, নদী-খাল দখল ও দূষণ এবং নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ওপরও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মাদক নিয়ন্ত্রণের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলায় ৯৮৭টি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে ১৮৯টি মোবাইল কোর্ট মামলা এবং ৫১টি নিয়মিত মামলাসহ মোট ২৪০টি মামলা হয়েছে।

এ সময়ে ১৭ হাজার ২৫০ পিস ইয়াবা এবং ২৮ দশমিক ৮৫৯ কেজি গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক ও আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঠেকাতে স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চলমান সড়ক উন্নয়নকাজে জনদুর্ভোগ, পৌর এলাকায় অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ডাম্প ট্রাকের বেপরোয়া চলাচল, মাদক, অবৈধ ইটভাটা ও পরিবেশদূষণকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

সভায় লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার আবু তারেক, সিভিল সার্জন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন