অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তামাকের বদলে লাভজনক ফসল, পাহাড়ি কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে রোয়াংছড়িতে উঠান বৈঠক

মাটি-পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি তুলে ধরল কৃষি বিভাগ • ধান, শাকসবজি ও ফল চাষে গুরুত্ব • বিকল্প চাষে কারিগরি সহায়তার আশ্বাস

বান্দরবান: তামাক চাষ থেকে কৃষকদের সরিয়ে পাহাড়ের মাটি ও জলবায়ু উপযোগী লাভজনক ও পুষ্টিকর ফসল চাষে আগ্রহী করতে বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে উঠান বৈঠক করেছে কৃষি বিভাগ। বৈঠকে তামাক চাষের কারণে মাটি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব তুলে ধরার পাশাপাশি বিকল্প ফসলের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের নাছালং পাড়ায় এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ সুমন কুমার বসাক। নোয়াপতং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চনুমং মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রোয়াংছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এহসানুল হক।

তামাকের বদলে ধান-সবজি-ফলে জোর

বৈঠকে স্থানীয় তামাক চাষিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। তামাক চাষের ফলে কৃষিজমির মাটি ও পরিবেশের ওপর কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষকের জন্য এ চাষ কী ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে—এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।

কর্মকর্তারা তামাকের পরিবর্তে ধান, শাকসবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন লাভজনক ও পুষ্টিকর ফসল চাষের সম্ভাবনার কথা জানান। বিশেষ করে পাহাড়ের মাটি ও জলবায়ুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফসল নির্বাচন করে পরিকল্পিতভাবে আবাদ করলে কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনেও অবদান রাখা সম্ভব বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের তামাকনির্ভরতা কমিয়ে পর্যায়ক্রমে বিকল্প ফসলের দিকে যাওয়ার আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়।

নিজেদের সমস্যার কথা জানালেন তামাক চাষিরা

উঠান বৈঠকে স্থানীয় তামাক চাষিরাও সরাসরি কথা বলেন। তাঁরা তামাক চাষের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিকল্প ফসল উৎপাদনে সম্ভাবনা ও বিভিন্ন সমস্যার কথা কৃষি কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন।

তামাকের পরিবর্তে অন্য ফসল চাষে কৃষকদের আগ্রহ তৈরির পাশাপাশি কোন ফসল স্থানীয় পরিবেশে ভালো ফলন দিতে পারে এবং উৎপাদনশীলতা কীভাবে বাড়ানো যায়—এসব বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বিকল্প ও লাভজনক ফসল চাষে আগ্রহী কৃষকদের প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হবে।

ঝুম ধানের নমুনা শস্য কর্তন

উঠান বৈঠক শেষে নাছালং পাড়ায় ঝুম ধানের নমুনা শস্য কর্তন করা হয়। এ সময় পাহাড়ি কৃষির সম্ভাবনা, প্রচলিত ঝুম চাষে আধুনিক কৃষিপদ্ধতির প্রয়োগ এবং কৃষকের উৎপাদনশীলতা ও আয় বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা।

পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষিকে আরও টেকসই ও লাভজনক করতে স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফসল নির্বাচন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও পরামর্শ কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে চারজন গণমাধ্যমকর্মী, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং স্থানীয় কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি উপযোগী বিকল্প ফসল চাষে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে রোয়াংছড়ির পাহাড়ি কৃষিতে নিরাপদ, টেকসই ও লাভজনক উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস, রাঙ্গামাটি অঞ্চল


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন