শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাক্ষীকে হুমকির প্রমাণ মিললে আইনি ব্যবস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

ট্রাইব্যুনালের সাক্ষীদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ; সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড তদন্তের আবেদনও খতিয়ে দেখবে প্রসিকিউশন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো মামলার সাক্ষীকে হুমকি বা ভয়ভীতি দেখানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, হুমকি দিয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার সাক্ষীদের আসামিপক্ষ হুমকি দিচ্ছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তাঁর কাছেও এসেছে। সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো মামলার সাক্ষীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে হুমকি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কিংবা বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত করা যাবে না।

সাগর-রুনি হত্যা: তদন্তের আবেদন খতিয়ে দেখবে প্রসিকিউশন

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়েও এ সময় কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। তবে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তের অনুরোধ জানিয়ে সাগর-রুনির পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাগর-রুনির ছেলে মেঘের মামা রোমান আবেদনটি নিয়ে এসেছিলেন। পরিবারের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাও বিষয়টি তদন্ত করুক অথবা প্রাসঙ্গিক কোনো তথ্য পাওয়া গেলে পিবিআইকে সহযোগিতা করুক।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আবেদনটি পরীক্ষা করে দেখা হবে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের আওতায় পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ‘ব্যাপক বা পদ্ধতিগত অপরাধের’ (widespread or systematic offence) বৈশিষ্ট্য পূরণ করে কি না, সেটিও বিবেচনা করা হবে। তা না হলে আবেদনকারীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।

‘দুই ব্যক্তিকে ঘিরে একটি সূত্র পাওয়া গেছে’

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্তের সম্ভাবনা সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, অন্য একটি তদন্ত করতে গিয়ে দুজন ব্যক্তিকে ঘিরে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেই সূত্র থেকেই পরিবারটি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্তে নতুন কিছু পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে।

তিনি জানান, ওই তথ্যের মধ্যে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও একজন সামরিক কর্মকর্তার যোগাযোগ এবং একটি ডিস্ক আনা-নেওয়ার বিষয় রয়েছে। ওই সামরিক কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির মাধ্যমে কিছু কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এসব তথ্য সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কি না কিংবা তদন্তে এর সত্যতা কতটুকু পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার শিকার হন। দীর্ঘদিনেও আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হয়নি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন