রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগামী পাঁচ বছরে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

অ্যামচ্যামের ৩০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার আহ্বান


আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে সরকার ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সরকার প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের বলরুমে অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন আজাদ, সংগঠনটির সাবেক সভাপতিবৃন্দ, বর্তমান ও সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত তিন দশকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অ্যামচ্যাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংগঠনটি শুধু ব্যবসায়ীদের একটি প্ল্যাটফর্ম নয়; সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কেবল বাণিজ্যের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, জ্ঞান ও বৈশ্বিক সর্বোত্তম অনুশীলন যুক্ত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং দেশের জাতীয় রাজস্বে ২০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি মার্কিন ব্যবসায়ীদের আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহের প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অ্যামচ্যাম নেতারা আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সরকার এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক সহযোগিতা দেবে।

তিনি বলেন, “যখন কোনো প্রকৃত ব্যবসায়িক সমস্যা আমাদের কাছে উত্থাপন করা হবে, আমার মন্ত্রণালয় ও সরকার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।”

এ প্রসঙ্গে অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠান কর্টেভা বাংলাদেশের উদাহরণ তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইসেন্সসংক্রান্ত একটি জটিলতা সরকারের উদ্যোগে এক মাসের মধ্যেই সমাধান করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে সরকারের সদিচ্ছার উদাহরণ হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

বিনিয়োগে সম্ভাবনা আছে, প্রয়োজন পূর্বাভাসযোগ্য পরিবেশ

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় গন্তব্য উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, তরুণ ও দক্ষ কর্মীবাহিনী এবং বড় অভ্যন্তরীণ বাজার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি করেছে। প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন শিল্প ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বড় সুযোগ রয়েছে।

তবে শুধু সম্ভাবনা থাকলেই বিনিয়োগ আসবে না—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে নীতির পূর্বাভাসযোগ্যতা, ব্যবসা পরিচালনার সহজ পরিবেশ, কার্যকর বাণিজ্য সুবিধা এবং স্থিতিশীল নীতিগত কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সরকারি সেবায় ডিজিটালাইজেশন বাড়ানো, বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পরবর্তী অধ্যায় আরও সম্ভাবনাময়’

বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পরবর্তী অধ্যায় আরও সম্ভাবনাময় হতে পারে। আরও বেশি মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক দক্ষতা যুক্ত হবে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার প্রবেশাধিকার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, ব্যবসায়ী সমাজ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী এবং অ্যামচ্যামের মতো সংগঠনগুলোর মধ্যে শক্তিশালী ও কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

অ্যামচ্যামের ৩০ বছর পূর্তিকে শুধু অতীতের অর্জন উদযাপন নয়, ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনা তৈরির উপলক্ষ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আরও বাণিজ্য, আরও বিনিয়োগ, অধিক উদ্ভাবন, নতুন কর্মসংস্থান এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন