শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ইউএনডিপির বৈঠক, বিনিয়োগ ও জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা (South-South Cooperation) সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বাংলাদেশে আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেস।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং চীন সরকারের সহযোগিতায় বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে বিশেষ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা এবং শহরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও জীবিকা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বিনিয়োগ আকর্ষণে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আরও উৎসাহিত করার বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে উন্নয়ন সহযোগিতা কীভাবে কাজে লাগানো যায় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা যায়, সে বিষয়ে মতবিনিময় করেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও স্টিফেন রড্রিগেস।

উন্নয়ন সহযোগিতার সঙ্গে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সংযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

‘সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন’ সম্প্রসারণে গুরুত্ব

বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা।

South-South Cooperation-এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলো নিজেদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও কার্যকর উন্নয়ন মডেল একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করে থাকে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতার পরিধি বাড়িয়ে উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিশেষ করে চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের স্থানীয় চাহিদা এবং ইউএনডিপির উন্নয়ন অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারের উদ্যোগ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি ও তাপপ্রবাহের মতো জলবায়ুজনিত ঝুঁকি দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকায় ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি করছে।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে চলমান যৌথ উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়।

জলবায়ু অভিযোজন, টেকসই অবকাঠামো, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করার বিষয়ও আলোচনায় আসে।

শহুরে নিম্ন আয়ের নারীদের জীবিকা উন্নয়ন

বৈঠকে শহরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের নারীদের আর্থিক ও সামাজিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

দ্রুত নগরায়ণের ফলে বাংলাদেশের শহরগুলোতে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ও তাদের জীবনযাত্রার চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। এর মধ্যে নারীরা কর্মসংস্থান, দক্ষতা, আর্থিক সেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন।

চীন সরকারের সহযোগিতায় শহুরে নিম্ন আয়ের নারীদের জীবিকা উন্নয়নে চলমান যৌথ উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে মতবিনিময় করা হয়।

নারীদের দক্ষতা ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান শক্তিশালী করার বিষয়টি এসব উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা

বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চীন ও ইউএনডিপির সহযোগিতা আরও কার্যকর করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকটিকে বাংলাদেশে চীন ও ইউএনডিপির চলমান উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব নিয়ে মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বৈঠক থেকে নতুন কোনো চুক্তি বা অর্থায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কি না, প্রকাশিত তথ্যে তা উল্লেখ করা হয়নি।

তথ‍্য ও ছবি ইউএনডিপিবি/এফবি


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন