অনুসরণ করুন:
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

রাতের মেট্রোরেল সেবা বাড়ানোর উদ্যোগ, যুক্ত হচ্ছে আরও ট্রেন

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে মেট্রোরেলের রাতের সেবা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাতের শেষ ট্রেনের সময় আরও পেছানো এবং ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে অপেক্ষার সময় কমানোর বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

সাম্প্রতিক সময়ে মেট্রোরেলে যাত্রীসংখ্যা দ্রুত বাড়ায় সেবার সময় ও ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এর আগে ২০২৬ সালের ৭ জুন থেকে রাতে উভয় দিকের সেবা ২০ মিনিট করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন সূচিতে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিলগামী শেষ ট্রেন রাত ৯টা ৫০ মিনিটে এবং মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তরগামী শেষ ট্রেন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ছাড়ছে। 

রাত ১১টা পর্যন্ত চালানোর পরিকল্পনা

ডিএমটিসিএলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে মেট্রোরেলের রাতের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করে মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তরমুখী শেষ ট্রেন রাত ১১টার দিকে ছাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। মে মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এমন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিলমুখী শেষ ট্রেনের সময়ও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। 

তবে সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকেই রাত ১১টা পর্যন্ত চলাচল এবং আগস্টের শেষ সপ্তাহে দুটি নতুন ট্রেন যুক্ত হওয়ার বিষয়টি এখন পর্যন্ত ডিএমটিসিএলের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এসব তথ্যকে আপাতত পরিকল্পনা বা সম্ভাব্য সময়সূচি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বাড়ানো হবে ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি

রাতের সেবার পাশাপাশি ট্রেনের মধ্যবর্তী বিরতি কমানোর উদ্যোগও রয়েছে। যাত্রী চাহিদা বাড়ায় মেট্রোরেলকে আরও ঘন ঘন পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিকল্পনায় পিক আওয়ারে ট্রেনের ব্যবধান প্রায় ৪ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। 

ডিএমটিসিএলের কাছে মোট ২৪ সেট মেট্রোরেল ট্রেন রয়েছে। বাড়তি সময়ের সেবা চালু করতে চলমান ট্রেনসেটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসেছে। 

এর ফলে বিশেষ করে অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য কর্মস্থল থেকে রাতে ফেরা যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমতে পারে। একই সঙ্গে সড়কনির্ভর গণপরিবহনের ওপর চাপও কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বাড়ছে যাত্রী, বাড়ছে সেবার চাপ

বর্তমানে প্রতিদিন মেট্রোরেলে চার লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করছেন। যাত্রীসংখ্যা দ্রুত বাড়ায় বিদ্যমান সময়সূচিতে আরও বেশি ট্রিপ পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। 

ডিএমটিসিএল মনে করছে, সেবার সময় বাড়ানো এবং ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো হলে মেট্রোরেলের সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এর ফলে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি টিকিট বিক্রি থেকে রাজস্বও বাড়বে।

তবে রাতে অতিরিক্ত ১০ হাজার যাত্রী এবং বছরে ১৮–২০ কোটি টাকা বাড়তি রাজস্বের যে হিসাব প্রচার করা হচ্ছে, তার স্বাধীন ও সাম্প্রতিক সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। তাই এ সংখ্যাগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই যুক্তিযুক্ত।

কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণে বাড়বে সক্ষমতা

মেট্রোরেলের সেবার পরিধি বাড়ানোর আরেকটি বড় ধাপ হচ্ছে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্ধিত অংশে আগামী বছরের জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানোর লক্ষ্য রয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে এপ্রিলে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরু হতে পারে। 

উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পুরো অংশ চালু হলে দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ৭৭ হাজার যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হবে বলে প্রকল্পের প্রক্ষেপণে উল্লেখ করা হয়েছে। 

রাতে যাতায়াতে স্বস্তির প্রত্যাশা

মেট্রোরেলের সময় বাড়লে অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ রাতে চলাচলকারী বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রী উপকৃত হবেন। বিশেষ করে রাজধানীর দীর্ঘ যানজট এড়িয়ে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে গন্তব্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মেট্রোরেল গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

তবে সময়সূচি পরিবর্তনের আগে ট্রেনের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মীদের শিফট, স্টেশন ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়গুলোও নিশ্চিত করতে হবে।

ডিএমটিসিএলের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ধাপে ধাপে মেট্রোরেলের রাতের সেবা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে রাত ১১টা পর্যন্ত চলাচলের নির্দিষ্ট তারিখ ও নতুন দুটি ট্রেন যুক্ত হওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত যাত্রীদের বর্তমান সরকারি সময়সূচিই অনুসরণ করা উচিত।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন