অনুসরণ করুন:
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

রাজশাহীতে সারের সংকট নেই, পাচার ঠেকাতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ কৃষি সচিবের

দেশে বর্তমানে সারের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান। তিনি বলেছেন, কৃষকদের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে। তবে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার যাতে অবৈধভাবে সীমান্তের বাইরে পাচার না হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি কার্যক্রম ও মাঠপর্যায়ের সার ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনকালে কৃষি সচিব এসব কথা বলেন। দিনব্যাপী সফরে তিনি কৃষক, সার ডিলার এবং কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে বরাদ্দের সার

সকালে মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের চান্দোপাড়া গ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী’-এর মাঠ দিবসে অংশ নেন কৃষি সচিব।

অনুষ্ঠানে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, কৃষির উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষকের আয় বাড়াতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা ও ভর্তুকি দিয়ে আসছে। এর সুফল নিশ্চিত করতে কৃষি উপকরণ বিশেষ করে সার যথাসময়ে কৃষকের কাছে পৌঁছানো জরুরি।

তিনি কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম ও পরিমিত সার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি, অতিরিক্ত দাম নেওয়া বা অন্য কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন।

মোহনপুরে কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন কৃষি সচিব। এ সময় স্থানীয়ভাবে পান চাষের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে এলাকায় পান গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

সীমান্তে পাচার ঠেকাতে নজরদারি

দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মাঠপর্যায়ে সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক সভা করেন কৃষি সচিব।

সভায় রাজশাহী অঞ্চলে সার মজুদ, সরবরাহ ও বিতরণের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। কোথায় কী পরিমাণ সার রয়েছে এবং কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক আছে কি না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেন তিনি।

কৃষি সচিব বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় শুধু পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেই হবে না; বরাদ্দ করা সার সঠিক সময়ে প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে কৃষকদের জন্য সরকার যে ভর্তুকি দিয়ে সার সরবরাহ করছে, তা যেন কোনোভাবেই অবৈধ পথে দেশের বাইরে চলে না যায়—এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সার পরিবহন, মজুদ ও বিতরণ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেন তিনি।

ডিলারদের সঙ্গে মতবিনিময়

সভায় সার ডিলারদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি মতামত নেওয়া হয়। সার সরবরাহে কোনো সমস্যা, পরিবহনসংক্রান্ত জটিলতা কিংবা কৃষক পর্যায়ে বিতরণে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, তা জানতে চান কৃষি সচিব।

এ সময় সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকের কাছে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, যুগ্মসচিব ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক মো. মসীহুর রহমান, সচিবের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আতিকুর রহমানসহ কৃষি মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মাঠপর্যায়ে মজুদ ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অবৈধভাবে সার স্থানান্তরের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন