শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

মারিশ্যা জোনের উদ্যোগে ৩০০ পাহাড়ি-বাঙালিকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ৭ স্কুলে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

বাঘাইছড়ি | ১৪ আগস্ট ২০২৬

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে মারিশ্যা জোনের উদ্যোগে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর ৩০০ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং স্থানীয় সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাঘাইছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনে স্থানীয় ২৫০ জন পাহাড়ি এবং ৫০ জন বাঙালিসহ মোট ৩০০ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

মেডিকেল ক্যাম্পে মারিশ্যা জোনের মেডিক্যাল অফিসার মেজর অমিত কুমার সাহা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হয়।

শয্যাশায়ী প্রবীণের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা

মেডিকেল ক্যাম্পের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী ৭৫ বছর বয়সী বিনয় লাল চাকমার বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে মারিশ্যা জোনের মেডিকেল টিম।

দীর্ঘ প্রায় নয় মাস ধরে শয্যাশায়ী বিনয় লাল চাকমার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।

স্থানীয় পর্যায়ে প্রত্যন্ত ও অসহায় মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগকে মানবিক সহায়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে বাঘাইছড়ির সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮টি ফুটবল, ১৬টি ব্যাডমিন্টন ব্যাট, ব্যাডমিন্টন কক ও নেট বিতরণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া কার্যক্রমে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রীতি ও জনকল্যাণে উদ্যোগ

মারিশ্যা জোনের এ কার্যক্রমে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহিত করার মতো উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন