শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কে হাতির পাল, তিন ঘণ্টা বন্ধ যান চলাচল

রাঙামাটির কাপ্তাই-রাঙামাটি-আসামবস্তি সড়কে নেমে আসে একদল বন্য হাতি। সড়কের ওপর হাতির পাল অবস্থান নেওয়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকে যান চলাচল। এ সময় সড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে জেলার আগরবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বন বিভাগ ও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ERT) সদস্যদের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৮টার দিকে হাতিগুলোকে সড়ক থেকে বনের দিকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। এরপর ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সড়কে হাতি দেখে আতঙ্ক

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল ৫টার দিকে কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কে চলাচলকারী কয়েকজন যাত্রী বন থেকে বেরিয়ে সড়কের ওপর অবস্থান নেওয়া হাতিগুলো দেখতে পান। হঠাৎ সড়কের ওপর হাতির পাল দেখে চালক ও যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

বিষয়টি পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কার্যালয়ে জানানো হয়। খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমানের নেতৃত্বে বন বিভাগের কর্মী ও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

কয়েক দফা চেষ্টা, রাত ৮টায় বনে ফেরে হাতি

বন বিভাগের সদস্যরা প্রথমে আতশবাজি ব্যবহার করে হাতিগুলোকে সড়ক থেকে সরিয়ে বনের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করেন। তবে এতে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি হাতির দল।

পরে হাতিগুলোকে নিরাপদ দূরত্বে সরানোর জন্য ফাঁকা গুলি ছোড়া এবং গাড়ির হর্ন ব্যবহার করা হয়। একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে হাতির দলটি সড়ক ছেড়ে বনের ভেতরে চলে যায়।

হাতিগুলো সড়ক থেকে সরে যাওয়ার পর প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকা কাপ্তাই-রাঙামাটি-আসামবস্তি সড়কে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

সন্ধ্যার পর সতর্ক থাকার আহ্বান

কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, সন্ধ্যার পর কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কে বন্য হাতির আনাগোনা বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে এ পথে চলাচলকারী সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাতির কাছাকাছি না যাওয়ার এবং হাতি সড়কে অবস্থান করলে নিরাপদ দূরত্বে থেকে বন বিভাগের সদস্যদের খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন।

বনাঞ্চলসংলগ্ন সড়কে বন্য হাতির চলাচল মানুষের পাশাপাশি হাতির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই হাতির চলাচলের সময় যানবাহন থামিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং কোনোভাবেই হাতিকে উত্ত্যক্ত না করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন