শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কর্নেল অলির পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র, কেন এই কৌশল?

কারিগরি ত্রুটি এড়াতেই কি দ্বিতীয় মনোনয়নপত্র? ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই

ঢাকা | ১৪ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। একই প্রার্থীর পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, আইনে এ ধরনের একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে অলি আহমদের পক্ষে প্রথম মনোনয়নপত্রটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইসিতে জমা দেওয়া হয়। পরে বিকেল ৩টার দিকে তাঁর পক্ষে দ্বিতীয় মনোনয়নপত্র জমা দেন ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

ইসিতে জমা পড়েছে মোট তিন মনোনয়নপত্র

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ছিল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, মোট তিনটি মনোনয়নপত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের এবং একটি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।

অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, কেন দুটি মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়েছে, সেটি প্রার্থীর পক্ষের বিষয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রথম মনোনয়নপত্র বৈধ হলে দ্বিতীয়টি আর আলাদাভাবে যাচাই করার প্রয়োজন হবে না।

কেন দুটি মনোনয়নপত্র?

১১–দলীয় ঐক্যের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ধরনের আইনগত বা কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রার্থিতা ঝুঁকিতে না পড়ার জন্য সতর্কতামূলকভাবেই দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জামায়াত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কোনো ফাঁকফোকর যাতে না থাকে, সে জন্যই দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নজির রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে পাবনা-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোট দেবেন এবং তাঁদের মধ্য থেকেই প্রস্তাবক ও সমর্থক হতে হবে। একাধিক প্রস্তাবক ও সমর্থকের মাধ্যমে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় কোনো সমস্যা নেই বলে তাঁরা মনে করছেন।

তবে ইসি ও রাজনৈতিক সূত্রগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর নাম বা প্রয়োজনীয় তথ্যের কোনো কারিগরি অসঙ্গতি থাকার আশঙ্কা থেকেই দ্বিতীয় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে প্রার্থীর নামের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা নামের কিছুটা গরমিলের বিষয় সামনে আসার পর দ্বিতীয় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

তবে প্রথম মনোনয়নপত্রে বাস্তবে কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ফলে দ্বিতীয় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রকৃত কারণ যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই

জমা পড়া তিনটি মনোনয়নপত্র আগামী ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে যাচাই-বাছাই করবে নির্বাচন কমিশন।

ইসি জানিয়েছে, এ সময় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য, স্বাক্ষরসহ সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা যাচাই করা হবে। এ কাজে সহযোগিতার জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকেও একজন কর্মকর্তা ইসিতে উপস্থিত থাকবেন।

যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট।

প্রয়োজন হলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সভাকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা সরাসরি ভোট দেন না; সংসদ সদস্যরা নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন।

বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করা হয়েছে। ইসি সূত্র অনুযায়ী, বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলেও শেষ পর্যন্ত একটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী।

বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ ১১–দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলোর মোট সংসদ সদস্য সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ফলে সংসদে ভোটের হিসাবেও বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এগিয়ে রয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এরপর প্রয়োজন হলে ২০ আগস্ট ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এখন রাজনৈতিক মহলের নজর ১৬ আগস্টের যাচাই-বাছাইয়ের দিকে। অলি আহমদের পক্ষে জমা দেওয়া দুটি মনোনয়নপত্রের কোনটি বৈধ হয়, কিংবা প্রথমটিতে কোনো কারিগরি সমস্যা থাকলে দ্বিতীয় মনোনয়নপত্র সেটি কতটা কার্যকরভাবে সামাল দিতে পারে—তা যাচাই-বাছাইয়ের পরই স্পষ্ট হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন