শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

১৫ আগস্ট ঘিরে রাজধানীতে ৯ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ডিএমপি

১৪ আগস্ট ২০২৬

আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) ঘিরে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে ৯ ধরনের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

ডিএমপি জানিয়েছে, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, প্রবেশপথ, জনসমাগমস্থল ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো হলো—

১. রাজধানীজুড়ে পিকেট ও চেকপোস্ট:
রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করা হচ্ছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর প্রয়োজন অনুযায়ী তল্লাশি চালানো হবে।

২. প্রবেশপথে বাড়তি তল্লাশি:
ঢাকা মহানগরের সব প্রবেশপথে চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার রাখা হবে। রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর থাকবে।

৩. ডিবি ও সিটিটিসির তৎপরতা:
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা প্রয়োজন অনুযায়ী অপারেশনাল কার্যক্রমে মোতায়েন থাকবেন।

৪. সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ও কে-নাইন ইউনিটের সুইপিং:
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং কে-নাইন ইউনিটের সদস্যরা সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

৫. গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিশেষ নজরদারি:
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। এসব এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হবে।

৬. সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতা:
সিটিএসবি ও আইএডির সদস্যরা সাদা পোশাকে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা এবং তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখবেন। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত র‌্যাব ও সিআইডি টিম মোতায়েন থাকবে।

৭. প্রস্তুত থাকবে কুইক রেসপন্স টিম:
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় পর্যাপ্ত কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত ও মোতায়েন থাকবে।

৮. গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত ফোর্স:
স্বাভাবিক মোতায়েনের বাইরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, অনুষ্ঠানস্থল, মেট্রোরেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, ট্রেন স্টেশন ও শপিংমলসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত অফিসার ও ফোর্স মোতায়েন থাকবে।

৯. মাঠপর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি:
ডিএমপির সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরেজমিনে মাঠে থেকে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করবেন।

ডিএমপি জানিয়েছে, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন