শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে আরও ৫০০ শয্যার ভবন, শনিবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়াতে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল (NINS)-এ যুক্ত হচ্ছে আরও ৫০০ শয্যা। হাসপাতালের নবনির্মিত ১৫ তলা ভবনটি আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ১০টায় নতুন ভবনটির উদ্বোধন করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নতুন ভবনটি চালু হলে হাসপাতালটির মোট শয্যা সংখ্যা ৫০০ থেকে বেড়ে ১ হাজারে উন্নীত হবে। এর ফলে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিশেষায়িত স্নায়ুরোগ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা আরও বাড়বে।

১৫ তলা ভবনে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অধিকাংশ চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে।

তিনটি বেজমেন্টসহ মোট ১৫ তলা ভবনটিতে রয়েছে পার্কিং ও সার্ভিস সুবিধা। ওপরের ১২ তলায় বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার এবং ডায়াগনস্টিক ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন ভবনে ৪০ শয্যার আইসিইউ, ২০ শয্যার এইচডিইউ, ২৪টি পোস্ট-অপারেটিভ বেড এবং ১১২টি কেবিন রয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ৬২টি ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

১০০ শয্যার ট্রমা ইউনিট

নতুন ভবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ১০০ শয্যার বিশেষায়িত ট্রমা ইউনিট। সড়ক দুর্ঘটনা, উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়া কিংবা অন্যান্য দুর্ঘটনায় মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য এ ইউনিট চালু করা হচ্ছে।

ট্রমা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের সুবিধা থাকবে। এর মধ্যে চারটি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে, যার দুটি মডুলার ওটি। নিয়ন্ত্রিত ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশে অস্ত্রোপচারের জন্য এসব আধুনিক অপারেশন থিয়েটার তৈরি করা হয়েছে।

সরকারি হাসপাতালে প্রথম সেন্ট্রাল এসি ও এসকেলেটর

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিনটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা নতুন ভবনটি সম্পূর্ণ সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং (সেন্ট্রাল এসি) ব্যবস্থার আওতায় থাকবে। কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে এ ধরনের ব্যবস্থা নতুন একটি সংযোজন।

রোগীদের এক তলা থেকে অন্য তলায় স্থানান্তরের সুবিধার জন্য ভবনের এক থেকে তিনতলা পর্যন্ত এসকেলেটর স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে মাথায় ও মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত এবং চলাচলে অক্ষম রোগীদের স্থানান্তরের সময় ঝুঁকি কমাতে এ সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

আধুনিক ডায়াগনস্টিক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম

নতুন ভবনে উন্নত চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের জন্য একটি ক্যাথল্যাব, দুটি এমআরআই ও দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার জন্য আধুনিক অটোক্লেভ, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সলিড ওয়েস্ট ডিসপোজাল সিস্টেম এবং পৃথক অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এসব সুবিধা চালু হলে জটিল স্নায়ুরোগ ও নিউরোসার্জারি রোগীদের দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগ আরও বাড়বে।

স্ট্রোক রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি

হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্ট্রোক আক্রান্ত রোগী। এরপর রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগী।

এ ছাড়া পারকিনসন্স, ডিমেনশিয়া, গিলিয়ান-বারে সিনড্রোম (GBS), মৃগী, হাইড্রোসেফালাসসহ বিভিন্ন নিউরোলজিক্যাল রোগে আক্রান্ত রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নেন। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব বয়সী রোগীর জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

শয্যাসংকট কমবে, বাড়বে সেবার সুযোগ

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে বলেন, নতুন ভবনটি চালু হলে হাসপাতালে আরও ৫০০ শয্যা যুক্ত হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে শয্যার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক রোগীকে চিকিৎসাসেবা না দিয়েই ফেরত দিতে হয়। হাসপাতালের নীতিমালা অনুযায়ী শয্যার বাইরে রোগী ভর্তি করার সুযোগ না থাকায় এ সংকট তৈরি হয়। নতুন ভবন চালু হলে আরও বেশি সংখ্যক রোগীকে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

২০০৬ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

হাসপাতালটির ইতিহাস তুলে ধরে পরিচালক জানান, দেশে নিউরো রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে তাঁর ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন ভবনের উদ্বোধন করবেন—এটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য বিশেষ তাৎপর্যের বিষয়।

নতুন ৫০০ শয্যার ভবনটি চালু হলে শুধু শয্যা সংখ্যা বাড়বে না, বরং উন্নত আইসিইউ, ট্রমা কেয়ার, নিউরোসার্জারি, ডায়াগনস্টিক এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নিউরোলজি ও নিউরোসার্জারি রোগীদের জন্য ঢাকায় বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন