শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মালামাল চুরির অভিযোগে সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

ধানমন্ডি থানায় মামলা, গ্রেপ্তার আশরাফুল মামুন

রাজধানীর ধানমন্ডিতে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের অফিস থেকে অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আশরাফুল মামুন (৪০)-এর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) রেজওয়ানা আক্তার জাহান বাদী হয়ে ধানমন্ডি মডেল থানায় মামলাটি করেন। মামলাটি পেনাল কোডের ৩৮১ ধারায় কর্মচারী কর্তৃক চুরির অভিযোগে করা হয়েছে। মামলার নম্বর ৮।

দফায় দফায় মালামাল সরানোর অভিযোগ

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আশরাফুল মামুন আগে ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ৬ আগস্ট তাকে সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে দায়িত্ব দিয়ে অন্য শাখায় বদলি করা হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নতুন পদে যোগ না দিয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই অফিসের বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেন।

এজাহারে তিনটি পৃথক ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম ঘটনা: ৮ আগস্ট সকালে ছুটির দিনে আশরাফুল মামুন ট্রাস্টের অফিসিয়াল গাড়ি ঢাকা মেট্রো-চ-১০-১৭০১ নিয়ে আউটসোর্সিংয়ের গাড়িচালক মো. আবুল কালামকে সঙ্গে নিয়ে তার বর্তমান ঠিকানায় যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে ওই দিন দুপুরে তিনি আবার ধানমন্ডি ১২/এ সড়কে অবস্থিত ট্রাস্টের কার্যালয়ে আসেন। এরপর দুপুর পৌনে ৩টার দিকে বড় চারটি বস্তা ও কয়েকটি ব্যাগে থাকা মালামাল গাড়িতে তুলে অফিস ত্যাগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ঘটনা: ১১ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ট্রাস্টের অফিসের করিডরে থাকা একটি ট্রাঙ্ক ড্রাইভার শামীম মৃধার মাধ্যমে ময়মনসিংহে আশরাফুল মামুনের বাসায় পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আনসার সদস্য মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

তৃতীয় ঘটনা: এর আগে ২৫ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে একটি কাভার্ড ভ্যানে করে ট্রাস্টের চারটি গ্যাস সিলিন্ডার সরিয়ে নেওয়ার তথ্যও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় আনসার সদস্য চালকের কাছে মালামাল কোথায় নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি সেগুলো গাবতলী নেওয়া হচ্ছে বলে জানান। পরে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রথমে জিডি, পরে মামলা

কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ২৫ জুলাই থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে দফায় দফায় ট্রাস্টের বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর ১৩ আগস্ট ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডির নম্বর ৭৭৬।

পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার পর ঘটনাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক মামলা করা হয়।

তদন্তের দায়িত্ব এসআই এরশাদ উল্লাহর

ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অফিসের কী পরিমাণ ও কী ধরনের মালামাল সরানো হয়েছে এবং সেগুলোর প্রকৃত অবস্থানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন