শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকটে উদ্ভাবনী ও স্থানীয় উদ্যোগ জোরদারে CARE-UNHCR সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও কমে আসা সম্পদের মধ্যে উদ্ভাবনী ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত উদ্যোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে CARE Bangladesh-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR-এর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ সম্প্রসারণ, অংশীদারত্ব জোরদার এবং সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

CARE Bangladesh-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোহিঙ্গা সংকটে মানুষের প্রয়োজন ক্রমেই বাড়ছে। একই সময়ে মানবিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্পদ ও অর্থায়ন সংকুচিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে গুরুত্ব

আলোচনায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনগণের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয়ভাবে পরিচালিত ও উদ্ভাবনী পদ্ধতি আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষ করে স্থানীয় সংগঠন ও অংশীজনদের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি করার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

CARE Bangladesh-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস এর আগে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এক নিবন্ধে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংকোচনের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্থা, শরণার্থী নেতৃত্ব ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কেন্দ্রে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছিলেন।

কমছে সম্পদ, বাড়ছে মানবিক চাহিদা

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার জন্য খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সুরক্ষা ও আশ্রয়সহ মৌলিক মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে অর্থায়নের ঘাটতি ও বিভিন্ন ধরনের মানবিক ঝুঁকি।

এ পরিস্থিতিতে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি কম খরচে বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছানো, স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা তৈরির উদ্যোগকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে রাম দাসের পূর্ববর্তী বিশ্লেষণেও অর্থায়ন ঘাটতি, ক্যাম্পের ক্রমবর্ধমান চাপ, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকির কথা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তার সঙ্গে উন্নয়ন ও শান্তি-প্রক্রিয়াকে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শক্তিশালী অংশীদারত্বের আহ্বান

সাম্প্রতিক আলোচনায় CARE Bangladesh ও UNHCR-এর মধ্যে চলমান সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। রোহিঙ্গা সংকটের মতো দীর্ঘস্থায়ী মানবিক পরিস্থিতিতে একক কোনো সংস্থার পক্ষে সব ধরনের চাহিদা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়—এ কারণে জাতিসংঘ সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় এনজিও, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারত্বকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে কক্সবাজারে স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করলে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং সেবার কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

CARE Bangladesh তাদের সাম্প্রতিক বার্তায় UNHCR-এর সঙ্গে চলমান সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আরও উদ্ভাবনী ও স্থানীয় উদ্যোগ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে গুরুত্ব

রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় শুধু জরুরি মানবিক সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় সক্ষমতা, সামাজিক সংহতি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং জীবিকাভিত্তিক উদ্যোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়গুলোও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি স্থানীয় অংশীজনদের নেতৃত্ব ও সক্ষমতা বাড়াতে পারলে সীমিত সম্পদের মধ্যেও আরও কার্যকর মানবিক সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।

CARE Bangladesh ও UNHCR-এর মধ্যে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগণের জন্য আরও সমন্বিত, স্থানীয় বাস্তবতানির্ভর ও টেকসই মানবিক উদ্যোগ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন