অনুসরণ করুন:
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

সিলেটের কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেট, ১৫ আগস্ট ২০২৬

সিলেট অঞ্চলের কৃষির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পতিত ও এক ফসলি জমি চাষের আওতায় আনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সিলেট নগরীর হোটেল মেট্রোর সম্মেলনকক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও আগের বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

পতিত জমি আবাদে আনার ওপর গুরুত্ব

মন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে সিলেটের হাওর ও নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পানি জমে থাকে। এসব এলাকায় কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি পুনরায় কৃষির আওতায় আনা সম্ভব।

একইভাবে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি নিশ্চিত করা গেলে বর্তমানে এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি এবং দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে খাল খননকে কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিতভাবে পানি নিষ্কাশন ও সেচের ব্যবস্থা করা গেলে একই জমি থেকে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। 

আগাম তরমুজে নতুন সম্ভাবনা

সিলেটে আগাম তরমুজ চাষের সাফল্যকে কৃষির নতুন সম্ভাবনার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর মতে, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, তরমুজ ও পেঁয়াজসহ নতুন ফসল চাষে যারা ঝুঁকি নিয়েছেন, তাঁরা কৃষির নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যান্য কৃষককেও নতুন ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করতে হবে। 

শীতপ্রবণ এলাকায় বিট চাষের সম্ভাবনা যাচাই

সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকার ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে এলাকাভিত্তিক ফসল নির্বাচন করার ওপরও জোর দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের মতো শীতপ্রবণ এলাকায় বিট চাষের সম্ভাবনা যাচাই করা যেতে পারে। নতুন ধরনের কৃষিপণ্যের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করতে পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি। 

কৃষি ও প্রাণিসম্পদে বিশেষ পরিকল্পনার উদ্যোগ

সিলেট বিভাগের কৃষি ও প্রাণিসম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং অঞ্চলভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে আগামী সপ্তাহে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কৃষি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সিলেটে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

কৃষকের আয় বাড়ানোই মূল লক্ষ্য

মন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতি ইউনিট জমি থেকে উৎপাদন ও কৃষকের আয় বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে।

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারলে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে এবং বিশেষ করে চাল উৎপাদন ও রপ্তানির ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে জোর

সিলেটের কৃষিকে আরও আধুনিক ও উৎপাদনমুখী করতে কৃষকদের হাতে প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, শুধু জমির পরিমাণ বাড়ালেই হবে না; আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত কৃষি ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষিত কৃষক এবং সময়মতো কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।

সিলেটের কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালায় যারা ছিলেন

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক মো. রাকিব উদ্দিনসহ বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

সার্বিকভাবে, মন্ত্রীর বক্তব্যে সিলেটের কৃষিকে শুধু প্রচলিত ফসল উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পতিত জমি পুনরুদ্ধার, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা, বহুমুখী ফসল, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নতুন কৃষিপণ্যের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন