শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ–কসোভো দ্বিতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ অনুষ্ঠিত

শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জি-টু-জি সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে দুই দেশ

বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো Foreign Office Consultations (FOC) অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ আগস্ট কসোভোর রাজধানী প্রিশতিনায় দেশটির পররাষ্ট্র ও প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ পরামর্শ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়—পূর্ব ও পশ্চিম) ড. এম. নজরুল ইসলাম। অন্যদিকে কসোভোর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র ও প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল ইলির মুচাই

দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পাশাপাশি শ্রম অভিবাসন, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই দেশের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কসোভোর শ্রমবাজার

বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্ব পায় শ্রমিক চলাচল ও কর্মসংস্থান। দুই পক্ষই স্বীকার করে, কসোভোয় বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কসোভোর শ্রমবাজারে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে দুই দেশ Government-to-Government (G2G) সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে।

প্রস্তাবিত এ ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কসোভোয় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বাড়ানোর পথ তৈরি হবে।

বাংলাদেশের জন্য কসোভোর শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মীদের চাহিদা বাড়ায় নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে ঢাকা।

সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসনে জোর

FOC-তে দুই পক্ষের আলোচনায় শুধু কর্মী পাঠানোর বিষয় নয়, বরং স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

G2G ব্যবস্থার সম্ভাব্য উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কর্মী নিয়োগে মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমানো, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং কর্মীদের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা জোরদারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। দুই পক্ষ প্রথম ধাপে এ ধরনের সহযোগিতার কাঠামো কীভাবে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই ও আলোচনা চালিয়ে যাবে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের সুযোগ

দ্বিতীয় FOC আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা আরও জোরদার হলো। এ ধরনের পরামর্শ বৈঠক দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি করে।

বিশেষ করে শ্রম অভিবাসনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কসোভোর শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিয়মতান্ত্রিক প্রবেশাধিকার তৈরি করা গেলে তা একদিকে কসোভোর শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে, অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য নতুন বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

দুই দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে শ্রম সহযোগিতার কাঠামো নিয়ে আরও আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রেস রিলিজ। 


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন