অনুসরণ করুন:
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তার সই-সিল জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র, প্রতারক চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার

সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও দাপ্তরিক সিল জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র ও প্রজ্ঞাপন তৈরি করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ।

গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. বাবলু কাজী (৬০)। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর পল্লবী থানাধীন মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবি ওয়ারী বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাবলু কাজী ও তাঁর সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে তৈরি করা ভুয়া নিয়োগপত্র ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাগজপত্র দেখিয়ে তাঁরা চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিতেন।

চাকরির আশ্বাসে ১৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৫ জুন থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দা এলাকার বাসিন্দা মো. সবুজ সরকারের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চক্রটি ১৩ লাখ টাকা নেয়।

চাকরির বিষয়ে ভুক্তভোগীর বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য চক্রের সদস্যরা সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন দাপ্তরিক নথি দেখাতেন। পরে তাঁকে ভুয়া নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র দেওয়া হয়।

ডিবির দাবি, চক্রটি শুধু অর্থ নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত না। ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় করতে ভুয়া হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করানো এবং চাকরিতে যোগদানের পর প্রথম এক-দুই মাস নিজেদের অর্থ থেকে ‘বেতন’ দেওয়ার কৌশলও ব্যবহার করত তারা।

এরপর চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার পর হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যেত চক্রের সদস্যরা।

সরকারি অফিসকে টার্গেট করে প্রতারণা

তদন্তে চক্রটির প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে ডিবি।

গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, চক্রের সদস্যরা সাধারণ মানুষের যাতায়াত বেশি এমন বিভিন্ন সরকারি অফিসকে তাদের কার্যক্রমের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিত। তাদের একজন নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। অন্যরা কখনো গাড়িচালক, আবার কখনো অফিস সহকারী পরিচয়ে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে চলাফেরা করতেন।

এভাবে সরকারি অফিসে তাদের অবাধ চলাফেরা এবং কথাবার্তার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা হতো।

চক্রটি চাকরিপ্রার্থীদের বলত, কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরকারি চাকরি দেওয়া সম্ভব। এমনকি চাকরিতে যোগদানের পর টাকা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে—এমন আশ্বাসও দেওয়া হতো। এতে চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা আরও বাড়ত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযানে ভুয়া নথি উদ্ধার

গ্রেফতারের সময় বাবলু কাজীর কাছ থেকে সরকারি দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত সিলযুক্ত ও জাল স্বাক্ষর করা বিভিন্ন নথি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—

  • বাংলাদেশ সরকারের সিলযুক্ত ও জাল স্বাক্ষর করা ভুয়া নিয়োগ আদেশ;
  • ভুয়া যোগদানপত্র;
  • জাল প্রজ্ঞাপন;
  • নকল হাজিরা খাতা।

গোয়েন্দা পুলিশ এসব নথি যাচাইসহ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ করছে।

মূলহোতাসহ অন্যদের ধরতে অভিযান

ডিবি ওয়ারী বিভাগ জানিয়েছে, গ্রেফতার বাবলু কাজীর বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের ধারণা, সংঘবদ্ধ এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন। তাঁদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারে গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাকরিপ্রার্থীদের সরকারি চাকরির নামে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার এবং কোনো নিয়োগপত্র বা প্রজ্ঞাপনের সত্যতা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন