অনুসরণ করুন:
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

২০ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে সফরের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা, গুরুত্ব পাচ্ছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, জ্বালানি, পানি ও বাণিজ্য

ঢাকা, ১৫ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২০ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে ভারত সফরে যেতে পারেন। ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সফরের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করতে আলোচনা চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০-২১ আগস্ট অথবা ২১-২২ আগস্ট—এই দুটি সময়সীমা বর্তমানে বিশেষভাবে বিবেচনায় রয়েছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হতে পারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, সম্ভাব্য এই সফরের মধ্য দিয়ে তা কমিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকেরা।

ভারতীয় হাইকমিশনারের ধারাবাহিক বৈঠকের পর সফর নিয়ে আলোচনা

সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা জোরালো হওয়ার পেছনে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ১০ আগস্ট ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। একই সময়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ওই দিন ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন।

পরদিন ১১ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন ত্রিবেদী। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বৈঠকের ছবি প্রকাশ করে জানায়, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও কীভাবে উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা নিতে হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

এরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

কেন আগস্টেই সফরের চেষ্টা

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুরুতে আগস্টের শেষ দিকে সফরের প্রস্তাব দিয়েছিল ঢাকা। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সেপ্টেম্বরের শুরুতে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাব্য কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সেপ্টেম্বরের শুরুতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেবেন না—এমন সিদ্ধান্তের পর দ্বিপক্ষীয় সফরটি আগস্টেই আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা তৈরি হয়েছে বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

শেখ হাসিনা ইস্যুতে টানাপোড়েন

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে আছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড।

গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়। এর আগে ঢাকা ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল, শেখ হাসিনাকে যেন ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া না হয়।

পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনেও এই ইস্যুর প্রভাব থাকতে পারে।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য ঢাকা নয়াদিল্লির কাছে একটি অনুকূল পরিবেশ প্রত্যাশা করছে।

অর্থনীতি ও জ্বালানি সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ

দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সম্ভাব্য সফরে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করছেন সাবেক কূটনীতিকেরা।

নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশের এক সাবেক কূটনীতিকের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিষয়ে ভারত রাজনৈতিক কারণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ থেকেও আগ্রহী। বাংলাদেশের জন্য বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিতে ভারতের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ বাড়ছে। অন্যদিকে ভারতের জন্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পানি বণ্টন আলোচনায় বড় ইস্যু

সম্ভাব্য সফরে পানি বণ্টনও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে। আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তিও এখনো অমীমাংসিত।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তা চুক্তি এবং গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সাবেক ওই কূটনীতিকের মতে, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়গুলো থাকলেও পানি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো সাধারণ মানুষের জীবন ও দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে অগ্রগতি অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ২০ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে সফর আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশ এগিয়ে গেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মসূচি ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের ওপর।

ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর ঢাকা ফেরার পর সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া আরও এগোতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন