নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নিজ বাসায় তানিয়া নামে এক গৃহবধূকে হত্যার ঘটনায় তাঁর স্বামী মো. সোহাগ মিয়া জুলহাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে পারিবারিক অভাব-অনটন নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। গ্রেপ্তারের পর জুলহাস আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই তানিয়ার খালা মোছা. নাছিমা আক্তার তাঁর ভাগনির বাসায় যান। নিহতের স্বামীর কাছ থেকে নেওয়া একটি চাবি বাসায় পৌঁছে দিতে গিয়ে তিনি ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে বাড়িওয়ালার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করলে তানিয়ার মরদেহ দেখতে পান তিনি।
এ ঘটনায় নিহতের খালা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। গত ১০ আগস্ট দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলাটি পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার স্ব-উদ্যোগে তদন্তের জন্য গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় পিবিআই জানতে পারে, ঘটনার পর নিহতের স্বামী সোহাগ মিয়া জুলহাস আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।
পিবিআই জানায়, গত ১১ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টা ৫০ মিনিটে ফতুল্লা থানার সাইনবোর্ড এলাকার চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে জুলহাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পিবিআইয়ের কাছে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আসে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক অভাব-অনটন নিয়ে তানিয়ার সঙ্গে জুলহাসের কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে জুলহাস তানিয়ার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই আরও জানায়, হত্যার পর জুলহাস মরদেহ ঘরের ভেতরে রেখে তানিয়ার নাকে থাকা স্বর্ণের নাকফুল খুলে নেন। পরে বাইরে থেকে ঘরে তালা দিয়ে চাবিটি নিহতের খালার কাছে রেখে দেন। এরপর মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।
গ্রেপ্তারের পর জুলহাসকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাই এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা।

