মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

সুইডেনের সঙ্গে নিরাপত্তা ও দক্ষ জনশক্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা

বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। বিশেষ করে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

কারিগরি শিক্ষায় সুইডেনের সহযোগিতা চান মন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুইডেনকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং প্রশিক্ষণব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সুইডেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কেয়ারগিভারসহ দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন এবং দক্ষ কর্মী তৈরির ক্ষেত্রে সুইডিশ সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশই দক্ষিণ এশিয়ায় সুইডেনের একমাত্র দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কৌশলের অংশীদার

বৈঠকে সুইডিশ রাষ্ট্রদূত জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গেই সুইডেনের ‘দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কৌশল’ (Bilateral Cooperation Strategy) রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সুইডেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। তৈরি পোশাক ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সুইডিশ বিনিয়োগও বাড়ছে।

রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে সুইডেনে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শিক্ষার্থী।

অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার নিয়ে উদ্বেগ

বৈঠকে সুইডেনে অনিয়মিত অভিবাসনের বিষয়টিও উঠে আসে। রাষ্ট্রদূত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে কিছু বাংলাদেশি অনিয়মিত অভিবাসনের শিকার হচ্ছেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। উন্নত জীবনের প্রত্যাশা এবং পাচারকারীদের নানা ধরনের প্রলোভন এ ধরনের অনিয়মিত অভিবাসনের অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) সঙ্গে সমন্বয় করে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকটে সুইডেনের সহযোগিতা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

রোহিঙ্গা ডোনার গ্রুপের কো-চেয়ার হিসেবে সুইডেনের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সংকটটি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর জন্য সুইডেনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের শিক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সুইডেনের আগ্রহের কথা জানান।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক, নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনই এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের একমাত্র পথ।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশে সুইডিশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা | ১১ আগস্ট ২০২৬


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন