কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির চোকো (Chocó) প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছে। কম্পন অনুভূত হয়েছে রাজধানী বোগোতাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে।
ধসে পড়েছে ভবন, আটকা পড়েছেন অনেকে
ভূমিকম্পের সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রিসারালদা, ভালে দেল কাউকা ও কালদাস অঞ্চলে। রিসারালদা প্রদেশে অন্তত ৪২ জন এবং ভালে দেল কাউকায় ২৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পেরেইরা, কালি, মানিজালেস ও কিবদোসহ বিভিন্ন শহরে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ার খবর পাওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
পেরেইরা শহরে একটি গির্জার অংশবিশেষ ধসে পড়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি স্থাপনায় গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। কালিতেও একাধিক ভবন ধসে পড়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ভূমিকম্পের সময় মানুষকে ভবন থেকে বেরিয়ে রাস্তায় ছুটে যেতে এবং কিছু স্থাপনা ধসে পড়তে দেখা গেছে।
বিমানবন্দরেও ক্ষয়ক্ষতি
ভূমিকম্পের কারণে কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরগুলোর ভবন ও রানওয়ের নিরাপত্তা পরীক্ষা করছে।
বোগোতাসহ বিভিন্ন শহরে আতঙ্ক
ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী বোগোতা, মেডেলিন, কালি ও মানিজালেসসহ বহু শহরে অনুভূত হয়। অনেক মানুষ আতঙ্কে ভবন থেকে বের হয়ে রাস্তায় অবস্থান নেন। ভূমিকম্পটির শক্তিশালী কম্পন প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা কম বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে তা ৭.৪ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
সুনামির আশঙ্কা নেই
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির পর সুনামির কোনো হুমকি নেই। তবে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আফটারশক বা পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কা থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা
ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি পরিষেবা, দমকল ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বোগোতা ও মেডেলিন থেকেও অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে; ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ভূমিকম্পের পর জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক ডেকেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সরকারি সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন সরকারের জন্য এটি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় ধরনের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলার ঘটনা।
কেন কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি?
কলম্বিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটির পশ্চিমাঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূমিকম্পপ্রবণ বলয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং ভূ-তাত্ত্বিকভাবে নাজকা প্লেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সক্রিয় প্লেট সীমান্তের প্রভাব রয়েছে। ফলে দেশটিতে মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি দীর্ঘদিনের।
সর্বশেষ পরিস্থিতি: উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা এখনও পরিবর্তিত হতে পারে। সর্বশেষ পাওয়া প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৭৭ জন।

