অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

জীবদ্দশায় সম্পত্তি দান করেও ভোগের অধিকার থাকবে দাতার

ট্রান্সফার অব প্রপার্টি আইনে সংশোধনের অনুমোদন; পরিবারে সম্পত্তি হস্তান্তরে দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর হবে বলে আশা

পারিবারিক সম্পত্তি হস্তান্তর ব্যবস্থাকে আরও বাস্তবসম্মত ও আইনি সুরক্ষার আওতায় আনতে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত সংশোধনের মাধ্যমে এমন একটি বিধান যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে কোনো ব্যক্তি জীবদ্দশায় তার সন্তান, নাতি-নাতনি বা অন্য কোনো উত্তরাধিকারীর নামে সম্পত্তি দান করলেও নিজের জীবনের বাকি সময় ওই সম্পত্তি ভোগ, ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় সুবিধা গ্রহণের অধিকার আইনগতভাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন।

কেন এই সংশোধন?

বর্তমান সম্পত্তি আইনে দান সম্পন্ন হওয়ার পর দাতার ভোগাধিকার সংরক্ষণ নিয়ে সুস্পষ্ট বিধান ছিল না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি পারিবারিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সন্তানদের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও পরে সেই সম্পত্তি ব্যবহার বা বসবাসের অধিকার নিয়ে বিরোধ তৈরি হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাতাকে নিজ সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ দেখা গেছে।

সরকারের মতে, এই বাস্তবতা বিবেচনায় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সম্পত্তি দানের পরও দাতার অধিকার আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে এবং ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় পারিবারিক বিরোধ কমে আসে।

কী পরিবর্তন আসছে?

নতুন আইনের অধীনে দাতা চাইলে দানপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে পারবেন যে তিনি জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার সংরক্ষণ করবেন। অর্থাৎ মালিকানা উত্তরাধিকারীর নামে হস্তান্তর হলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত তিনি পূর্বের মতো সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন।

এতে বিশেষ করে বয়স্ক পিতা-মাতা, দাদা-দাদি এবং অভিভাবকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সুরক্ষা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংশোধনের ফলে—

  • বয়স্ক পিতা-মাতা সম্পত্তি দান করেও নিজেদের আবাসন নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারবেন।
  • পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিরোধ কমতে পারে।
  • দানপত্র নিয়ে ভবিষ্যতে আদালতে মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যাও হ্রাস পেতে পারে।
  • সম্পত্তি পরিকল্পনা (Estate Planning) আরও সুসংগঠিত ও নিরাপদ হবে।

দানপত্র কি আগের মতোই থাকবে?

আইনের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলেও দানপত্রে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণের শর্ত যুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। অর্থাৎ সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর এবং সম্পত্তি ব্যবহার—এই দুই বিষয়কে পৃথকভাবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মত

আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের একটি বড় কারণ হলো সম্পত্তি আগেভাগে দান করার পর দাতার অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা। নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে দাতা ও গ্রহীতা—উভয় পক্ষের অধিকার আরও স্পষ্ট হবে এবং আদালতে বিরোধ নিষ্পত্তিও সহজ হবে।

তবে তারা মনে করেন, আইন কার্যকর হওয়ার পর দানপত্রে ভোগাধিকার, দখল, ব্যবহার, হস্তান্তরের সীমা এবং অন্যান্য শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা জরুরি হবে, যাতে ভবিষ্যতে ব্যাখ্যা নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি না হয়।

এখন কী হবে?

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর খসড়া আইনটি পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংসদে পাস এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর এটি আইন হিসেবে কার্যকর হবে।

এক নজরে

  • আইনের নাম: দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬
  • মূল উদ্দেশ্য: দানকৃত সম্পত্তিতে দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার আইনি স্বীকৃতি দেওয়া।
  • কারা উপকৃত হবেন: পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, অভিভাবকসহ যেকোনো দাতা।
  • সম্ভাব্য সুফল: পারিবারিক বিরোধ কমবে, দাতার অধিকার সুরক্ষিত হবে এবং সম্পত্তি দান প্রক্রিয়া আরও নিরাপদ হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন