অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি, অর্থের বড় অংশ যেত বিদেশে—ডেভিড ইমনকে নিয়ে তদন্তে নতুন তথ্য

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে চাঁদাবাজির একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতি মাসে প্রায় এক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করতেন এবং সেই অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশে অবস্থানরত কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর কাছে পাঠানো হতো।

পুলিশের দাবি, নগরীর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঠিকাদারি কার্যক্রম, পরিবহন খাতসহ নানা উৎস থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাঠানো হতো এবং বাকি অর্থ স্থানীয় সহযোগী ও সশস্ত্র সদস্যদের পরিচালনা, অস্ত্র সংগ্রহ এবং অপরাধী চক্রের কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যয় করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের হয়ে কাজ করছিলেন। তাদের দাবি, বিদেশে অবস্থানরত বড় সাজ্জাদের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি অন্যতম সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতেন। বর্তমানে রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি অর্থ লেনদেনের উৎস, হুন্ডিসহ সম্ভাব্য অর্থ পাচারের পথ এবং এ নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। অতীতের কয়েকটি আলোচিত সহিংস ঘটনার তদন্তেও তার নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছেও বিপুল অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিতে সশস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনার সঙ্গে ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, চাঁদাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের প্রবাহ, এর ব্যবহার এবং বিদেশে অর্থ প্রেরণের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে কাজ চলছে। একই সঙ্গে অপরাধী চক্রের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তবে তদন্তাধীন এই বিষয়ে পুলিশ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তা এখনো তদন্তকারী সংস্থার দাবি। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন